• দেশে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা আঁচ করেই কি দলে ‘বজ্রমুষ্টি’ মজবুত করছে সঙ্ঘ? প্রশ্ন বিজেপির অন্দরে
    এই সময় | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • নরেন্দ্র মোদী সরকারের তৃতীয় দফার মেয়াদকালে সাম্প্রতিক সময়ে ‘প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা’র যে হাওয়া দেখা গিয়েছে, তাকে কার্যত অশনি সঙ্কেত বলেই মনে করছে সঙ্ঘ পরিবারের একাংশ৷ সঙ্ঘ নেতাদের বড় অংশের অভিমত, নিটের প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে জেন জ়ি আন্দোলন তারই প্রতিফলন। তা নজরে রেখেই দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের টিমে এ বার নিজেদের প্রভাব অনেকটাই বাড়িয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস৷ এক-দু’জন নন, সব মিলিয়ে ৬ জন সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী নেতা বিজেপির জাতীয় কমিটিতে বড় পদ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুনীল বনসল এবং বিএল সন্তোষ গত বারের জাতীয় কমিটিতেও ছিলেন৷ তাঁদের সঙ্গে স্থান পেয়েছেন রাম মাধব, বিনোদ তাওড়ে, সতীশ পুনিয়া এবং দীপক মাস্কে৷

    আরএসএস-এর একটি সূত্রের দাবি, গত দু’মাস ধরে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সঙ্ঘ পরিবারের শীর্ষ পদাধিকারীদের লাগাতার আলোচনায় এই ৬ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে৷ ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই সঙ্ঘ নেতাদের বড় ভূমিকাও থাকবে। সেই সূত্রেই দিল্লিতে বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের একাংশের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে লাগাতার সাফল্যের চূড়ায় থাকা পদ্ম শিবিরের পায়ের তলার মাটি এখন কিছুটা আলগা হয়েছে, এমনটা আঁচ করার পরেই কি বিজেপির সংগঠনে নিজেদের বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তিতে নিজেদের ‘বজ্রমুষ্টি’ আরও মজবুত করতে চাইছে আরএসএস?

    সোমবার বিজেপির যে জাতীয় কমিটি ঘোষণা হয়েছে, তাতে মোট ৬৫ জন পদাধিকারীর মধ্যে ৫১ জনই নতুন। ১৪ জন সহ-সভাপতির মধ্যে ১১ জন এবং ৮ জন সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ৭ জন অতীতে সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যে ৬ জন সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ নেতার পদপ্রাপ্তি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল চলছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম রাম মাধব৷ তিনি নাড্ডার টিমে ছিলেন না। বিজেপির অন্দরে ‘কাশ্মীর বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে পরিচিত রাম মাধবকে গত পাঁচ বছরে সেই অর্থে সক্রিয় ছিলেন না। অন্তত দৃশ্যত ছিলেন না। কিন্তু মোদী সরকারের তৃতীয় দফার মেয়াদের দু’বছর পরে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘটল। তা-ও এমন একটা সময়ে, যখন জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে একজোট হয়েছে বিরোধী শিবির৷ অনেকের মতে, এ নিয়ে গোটা উপত্যকায় প্রবল বিজেপি বিরোধী হাওয়া বইছে। তার ফায়দাও তুলতে সক্ষম হয়েছেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী এবং এনসি নেতা ওমর আব্দুল্লা। এই পরিস্থিতিতে রাম মাধবকে সামনে রেখে উপত্যকায় সাংগঠনিক ভাবে প্রভাব বিস্তারের পথে বিজেপি হাঁটতে পারে বলেই মত দলের একাংশের।

    বিজেপি সূত্রের মতে, সুনীল বনসল, বিএল সন্তোষ আগের মতোই সংগঠনে ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’-এর ভূমিকা পালন করবেন। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। সেখানে ইতিমধ্যেই তাওড়েকে সাংগঠনিক দায়িত্ব দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু তাওড়ের পাশাপাশি সে রাজ্যের ৪০৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে অন্তত ১০০টি আসনের দায়িত্ব সুনীলের কাঁধে থাকবে। দলীয় সূত্রের দাবি, ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন সুনীল। তাতে বিরাট সাফল্যও এসেছে। তার পরে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির জয়ে তাঁর ভূমিকা প্রশ্নাতীত। এ সব নজরে রেখেই সুনীলের উপরেই ভরসার করছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

    উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি আগামী বছর আরও ৬টি রাজ্যের বিধানসভা ভোট৷ আর তার দু’বছর পরে লোকসভা নির্বাচন। তা নজরে রেখে আইটি সেলের ইনচার্জ পদ থেকে অমিত মালব্যকে সরিয়ে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছত্তিসগড়ের সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ দীপক মাস্কেকে। সঙ্ঘের একটি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক জেন জ়ি আন্দোলনে সমাজমাধ্যমে বিজেপি যে ভাবে কোণঠাসা হয়েছে, তা নজরে রেখেই মাস্কেকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

  • Link to this news (এই সময়)