• যাদবপুরে আন্দোলন, নন্দলাল বসুর নকশা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকও ভেঙে ফেলল!
    এই সময় | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • রাতভর তাণ্ডবের পরে বৃহস্পতিবারও তুলকালাম চলল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। অশান্তিতে ভাঙল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যমণ্ডিত লোহার প্রতীকের একাংশ! নন্দলাল বসুর নকশা করা সেই লোহার প্রতীকের অংশ মাটিতে পড়ে পদদলিত। আন্দোলনের নামে পদাঘাত ঐতিহ্যকে? এই দৃশ্য দেখে মাথা হেঁট কলেজের পড়ুয়া, অধ্যাপকদের। ক্ষুব্ধ প্রাক্তনীরাও। গেটের উপরে উঠে দাপাদাপি, ডিম ছোড়া, জলের বোতল ছোড়া— বিশ্বের দরবারে বহু প্রশংসিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ দিন দেখা গেল এমনই ছবি। একদিকে SFI, AIDSO-সহ একাধিক বাম সংগঠনের সদস্যরা, অন্যদিকে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা, অশান্তিতে কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে উঠল JU চত্বর।

    প্রখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসু এই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকের নকশা করেছিলেন। গভীর অর্থ রয়েছে এই প্রতীকের। প্রজ্বলিত প্রদীপের তিনটি শিখা ঘেরা একটি গোলক দিয়ে। বাংলা ও হিন্দিতে লেখা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সেই প্রদীপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ঘিরে রেখেছে পদ্মফুলের একাধিক পাপড়ি। যে পাপড়িগুলি চারুকলা, ললিতকলা, সংস্কৃতির প্রতীক। সেই অংশই এ দিন আন্দোলনকারীদের তাণ্ডবে ভেঙে পড়ে।

    বুধবার জেনারেল বডির মিটিং নিয়ে অশান্তির সূত্রপাত। হামলা চলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। গেটে তালা লাগিয়ে ভিতরে আটকে রাখা হয় ছাত্রদের, আগুন পর্যন্ত ধরিয়ে দেওয়া হয়। মারামারি, রক্তপাত, হুমকি-হুঁশিয়ারি, অশ্রাব্য ভাষায় মুখর ছিল রাতের ক্যাম্পাস চত্বর। পুলিশ এসে কোনও মতে পরিস্থিতি সামাল দেয়। নিজেদের মতো করে বুধবার রাতের ঘটনার ব্যাখ্যা করে বৃহস্পতিবার জমায়েতের ডাক দেয় SFI ও ABVP।

    গোলপার্ক থেকে মিছিল করে যাদবপুরে আসার কথা ছিল ABVP-র। এ দিকে থানার সামনে একটি রাস্তা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। যেটি গোলপার্ক থেকে যাদবপুরের দিকে যায়। সেই রাস্তা বন্ধ করতেই ডিভাইডার টপকে উল্টো দিকের লেনে চলে আসেন ABVP-র আন্দোলনকারীরা। অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একাংশ যাদবপুরের ক্যাম্পাসের দিকে যেতে থাকে। রাস্তার ব্যারিকেড হাত দিয়ে তুলে ফেলার চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। এর পরে থানার সামনের দু’টি রাস্তাই আটকে দেওয়া হয়। রাস্তায় বসে পড়েন ABVP-র সদস্যরা। স্লোগান শাউটিং শুরু হয়।

    ও দিকে যাদবপুর 8B বাসস্ট্যান্ডে জমায়েত ছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলির। জমায়েত হতে না হতেই পুলিশের বাধার অভিযোগ। এর পরেই গার্ডরেল সরিয়ে আন্দোলনকারীরা এগোতে গেলে শুরু হয় হাতাহাতি। ব্যারিকেড ধরে ঝাঁকানো শুরু হয়। সেখানেও চলে ধস্তাধস্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেট চত্বর অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। গেট তালা দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়। পুলিশ, RAF, কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথ ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ময়দানে নামে। তার পরেও হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে।

    দু’দিন ধরে চলা যাদবপুরের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, ক্যাম্পাস সিসিটিভিতে মোড়া। কিন্তু যাদবপুরের সংস্কৃতি মেনে পুলিশ আউট পোস্ট বসানো হয়নি। ক্যাম্পাসে পুলিশ পোস্ট থাকলে ভালো হতো। পুলিশ আউট পোস্ট করতে হলে করা হবে। প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি হবে। আচার্য, উচ্চশিক্ষা দপ্তরে রিপোর্টও পাঠাবেন।

  • Link to this news (এই সময়)