বনগাঁয় দুই নৃত্যশিল্পীকে কুরুচিকর ভাষায় হেনস্থার অভিযোগ, কাঠগড়ায় টিকিট পরীক্ষক
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২১ আগস্ট ২০২৬
ট্রেনের ভেন্ডার কামরায় উঠে পড়েছিলেন দুই তরুণী নৃত্যশিল্পী। আর তাঁদেরকে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করে মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত টিকিট পরীক্ষককে গ্রেপ্তার করল বনগাঁ জিআরপি থানার পুলিশ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত টিকিট পরীক্ষকের নাম প্রশান্ত নাথ। তিনি বিড়া এলাকার বাসিন্দা। সোনারপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই টিকিট পরীক্ষককে। আর বিএনএস-এর ১২৭ (২), ৭৪, ৭৬, ৭৯ এবং ১৯৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এইসব ধারাগুলি হলো মৌখিক হেনস্থার মামলার ধারা। একইসঙ্গে পকসো আইনের ১২ নম্বর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার টিকিট পরীক্ষক প্রশান্ত নাথকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
এখন রাজ্যে ডবল ইঞ্জিনের সরকার। এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছে সরকার। সেখানে গত ১৮ জুলাই গোবরডাঙার ঋত্বিকা সাহা এবং অশ্রী সাহা গোবরডাঙ্গা স্টেশন থেকে টিকিট কেটে রানাঘাটে নাচের স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। ভুলবশত তাঁরা ভেন্ডার কামরায় উঠে পড়েন। বনগাঁ স্টেশনে নেমে পড়েন রানাঘাট লোকাল ধরবেন বলে। ট্রেন বনগাঁ স্টেশনে পৌঁছতেই সেখানে দায়িত্বে থাকা টিকিট পরীক্ষক প্রশান্ত নাথ তাঁদের মানসিক হেনস্থা এবং অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। এমনকী তাঁদেরকে নানাভাবে কটূক্তি পর্যন্ত করা হয়। এই ঘটনার দিনই অভিযোগ জানান তাঁরা থানায়। আর তারপরই বনগাঁ জিআরপি থানা গ্রেপ্তার করল প্রশান্তকে।
এখানেই শেষ নয়, আরও বেশকিছু অভিযোগ করেছেন দুই নৃত্যশিল্পী। টিকিট পরীক্ষক তাঁদের আটক পর্যন্ত করেন। আর ভেন্ডার কামরায় ভ্রমণের অভিযোগে আড়াই হাজার টাকা জরিমানা দাবি করেছিলেন। তখন তাঁদের সঙ্গে এত টাকা না থাকায় দুই ছাত্রী ভয়ে তাঁদের মায়েদের ফোন করেন। কিন্তু সেখানেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। কারণ ওই টিকিট পরীক্ষক ফোনে তাঁদের মায়েদের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন। এমনকী নাচের ক্লাসে দেরি হওয়ায় শিক্ষিকা ফোন করলে তাঁকেও অশালীন এবং আপত্তিকর ভাষায় অপমান করা হয় বলে অভিযোগ। প্রশান্ত নাথের বাড়ি বিড়া এলাকায়। বনগাঁ জিআরপি থানার ওসি নয়ন মৈত্র তাঁকে সোনারপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন।
গোটা ঘটনা নিয়ে নৃত্যশিল্পী ঋত্বিকা সাহা এবং অশ্রী সাহা বলেন, ‘টিকিট পরীক্ষক একটি ঘরে নিয়ে আমাদের বসিয়ে রাখেন৷ ওই টিকিট পরীক্ষক বলেন, একজনকে বিয়ে করব আর একজনকে সারারাত নাচাব।’ এই ঘটনার প্রতিবাদে অভিভাবক এবং নৃত্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বনগাঁ জিআরপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে টিকিট পরীক্ষকের শাস্তির দাবি করেন। শতাধিক নৃত্যশিল্পী টিকিট পরীক্ষকের ছবি হাতে নিয়ে বনগাঁ জিআরপি থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। আর তারপরই অভিযুক্ত টিকিট পরীক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।