কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক দলের দুই ছাত্র সংগঠন এবিভিপি বনাম এসএফআইয়ের ঘটনায় বার্তা দিলেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য৷ জেনারেল বডি মিটিং ঘিরে বুধবার রাতে হঠাৎই সরগরম হয়ে ওঠে যাদবপুর। স্লোগান-বিক্ষোভ-হাতাহাতি-আগুন। প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জোড়া মিছিল হয়। সেখানেও তুলকালাম কাণ্ড ঘটে! এই পরিস্থিতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় উপাচার্যের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ১৯-২০ অগাস্ট রাতের ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে জানালেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও হিংসার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, উপাচার্যের বার্তা। হিংসা, ভয় দেখানো বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি নষ্ট করার কোনও যুক্তি থাকতে পারে না, স্পষ্ট বার্তা উপাচার্যের। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত পক্ষকে শান্ত ও সংযত থাকার আবেদন, গুজব, যাচাই না-করা খবর বা উস্কানিমূলক মন্তব্যে প্রভাবিত না হওয়ার পরামর্শ।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের পরিবেশ নষ্ট না করে, আবেদন উপাচার্যের। ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পঠনপাঠন ও শিক্ষার পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান লক্ষ্য, জানিয়েছেন উপাচার্য। ঘটনার পরিস্থিতি ও কারণ খতিয়ে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ; বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা চাইলেন উপাচার্য। উপাচার্যের তরফে জানানো হয়েছে, আগামিকাল, শুক্রবার ২১ অগাস্ট দুপুরের আগেই তদন্ত কমিটি গঠন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া,ক্যাম্পাসে ভাঙচুর ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় যাদবপুর থানায় পুলিশি অভিযোগ দায়ের করবে বিশ্ববিদ্যালয়।