ক্যাম্পাসে তুলকালাম ৷ বিক্ষোভ। হাতাহাতি। আগুন। রণক্ষেত্র যাদবপুর! বেলা গড়াতেই উত্তাপ বাড়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভেঙে দেওয়া হয় পুলিশের ব্যারিকেড। আটকে দেওয়া হয় স্কুলবাস। বৃহস্পতিবার দুপুরে যাদবপুরে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শনেও বসে পড়েন ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা।
পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এবিভিপি-র ছাত্রদের একটি মিছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেট পর্যন্ত পৌঁছোলে সেখানে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের সব গেট বন্ধ করে দিলেও বাইরে থেকে বোতল, পাথর ছুড়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এমনকি, গেটের সামনে লোহার তৈরি যে প্রতীক ছিল, তারও একটি অংশ ভেঙে যায় এই অস্থিরতার মধ্যে। এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-পড়ুয়ারা। ছাত্র আন্দোলনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি করা কখনওই কাম্য নয় বলে মনে করছেন শিক্ষকেরা।
ঘটনার শুরু বুধবার রাত ৯টায় ৷ ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র সংগঠন ফেটসুর ডাকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনে বৈঠক চলছিল। এবিভিপির অভিযোগ, ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। জিবি মিটিং হয় কীভাবে। এখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং এবিভিপির মধ্যে বচসা শুরু হয়। সেখান থেকেই হয় হাতাহাতি। একেবারে তুলকালাম কাণ্ড !
দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত বলেও দাবি। এবিভিপি যাদবপুর ইউনিট (ট্রান্স) সভাপতি নিখিল দাস বলেন, ‘‘জিবি কেন ডাকা হয়েছে তা নিয়ে দু-একটা প্রশ্ন করা হয়। জবাব না দিয়ে আমাদের ফেলে দেওয়া হয়। আমরা আওয়াজ শুনে আসি, ছাত্রদের বাঁচাতে যাই। আমাদের ফেলে মারা হয়। বিচার চাই ৷’’
এসএফআই নেত্রী দীপ্সিতা ধরের কথায়, ‘‘বিজেপির লোকেরা তাণ্ডব করলেন। বিধায়কের কথায় তাণ্ডব করে তারা। অরবিন্দ ভবন জ্বালিয়ে দেওয়ার তাণ্ডব তারা করল। ওরাই এখন আক্রান্ত হওয়ার নাটক করছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের উপর যদি আক্রমণ হয় তাহলে একটাও ব্যারিকেড থাকবে না ৷’’
একদল পড়ুয়া ঢুকে পড়েন অরবিন্দ ভবনে। সেখানেও বিক্ষোভের আগুন। রাত যত বাড়ে বিক্ষোভের পরিসর আরও বাড়তে থাকে। যাদবপুর থানার সামনে শুরু হয় বিক্ষোভ। এবিভিপির কেন্দ্রীয় কার্যকমিটির সদস্য শুভব্রত অধিকারী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, এই দিমাগি নকশালদের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতার কাজ শুরু হল। ছত্তিশগড়ে যেভাবে অমিত শাহ এদের দমন করেন সেভাবে আমরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে দমন করব ৷’’
অন্যদিকে এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে-র মতে, ‘‘বিজেপির গুন্ডারা ক্যাম্পাসে ঢুকেছে রাতের অন্ধকারে। ভাঙচুর চালিয়েছে। আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। যাদবপুর জেগে আছে, জেগে থাকবে ৷’’
ঘটনাস্থলে চলে আসেন বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ও ৷ তিনি বলেন, ‘‘জুটাকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছি। টিচার্স ইউনিয়ন, আপনারা দেশবিরোধী সংগঠনগুলোকে, টুকরে টুকরে গ্যাংগুলোকে মদত দিচ্ছেন। যাদবপুরে এগুলো সহ্য করব না। হুঁশিয়ারি দিলাম ৷’’
এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘ছাত্র ভোট ঘোষণা করুন না। এসএফআই-সহ ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করুক এবিভিপি। তাঁরা ঠিক হলে এবিভিপিকেই ছাত্ররা বেছে নেবে। মাঝরাতে গুন্ডামি করার কী আছে ৷’’