কলকাতা, 19 অগস্ট: উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং ঐতিহ্যবাহী চা শিল্পকে সুরক্ষিত রাখতে বড়সড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। পূর্বতন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত থেকে সম্পূর্ণ সরে এসে চা বাগানের জমি পর্যটন ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের ঊর্ধ্বসীমা একধাক্কায় অর্ধেকে নামিয়ে আনল রাজ্য মন্ত্রিসভা। বুধবার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, চা পর্যটন ও সহযোগী শিল্পের জন্য চা বাগানগুলির মোট মঞ্জুরিকৃত এলাকার সর্বোচ্চ 15 শতাংশ জমি ব্যবহার করা যাবে, যার ঊর্ধ্বসীমা হবে অনূর্ধ্ব 150 একর। এর ফলে কার্যকরভাবে বাতিল হয়ে গেল বিগত সরকারের নেওয়া 30 শতাংশ জমি ব্যবহারের বিতর্কিত নীতি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চা বলয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি রোধ এবং বাগানের মৌলিক চরিত্র অটুট রাখার স্বার্থেই ‘চা পর্যটন এবং আনুষঙ্গিক ব্যবসা নীতি, 2019’ (Tea Tourism and Allied Business Policy, 2019)-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনে চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের 100 দিনের মাথায় বিধানসভায় পেশ করা পূর্ণাঙ্গ বাজেটে চা বাগানের জমির বাণিজ্যিক ব্যবহারে রাশ টানার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এদিন মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের মাধ্যমে সেই বাজেট প্রস্তাব বাস্তবায়িত হল।
উল্লেখ্য, আগে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে চা বাগানের জমি শিল্পের কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে উত্তরবঙ্গ জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে সাফাই দিয়ে জানানো হয়েছিল, চা বাগানের এমন জমিতেই পরিকাঠামো গড়ার অনুমতি মিলবে যেখানে কোনও প্লান্টেশন বা চা গাছ নেই। পরবর্তীতে সেই সুযোগকে আরও প্রসারিত করে পর্যটন ও বাণিজ্যিক কাজের জন্য চা বাগানের জমির ঊর্ধ্বসীমা 30 শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে চা বাগানের জমি শিল্পের কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে উত্তরবঙ্গ জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে সাফাই দিয়ে জানানো হয়েছিল, চা বাগানের এমন জমিতেই পরিকাঠামো গড়ার অনুমতি মিলবে যেখানে কোনও প্লান্টেশন বা চা গাছ নেই। পরবর্তীতে সেই সুযোগকে আরও প্রসারিত করে পর্যটন ও বাণিজ্যিক কাজের জন্য চা বাগানের জমির ঊর্ধ্বসীমা 30 শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর প্রধান অনিত থাপা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, পর্যটনের নামে চা উৎপাদন ব্যাহত করা পাহাড়বাসী কোনোভাবেই মেনে নেবে না। স্থানীয় চা শ্রমিক ও পরিবেশবিদদের মধ্যেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, অবাধ বাণিজ্যিকীকরণের সুযোগ পেলে চা বাগানগুলি তাদের নিজস্ব সত্তা হারিয়ে রিসর্ট ও আবাসন ব্যবসায় পরিণত হবে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়। 2019 সালের মূল নীতি পুনর্বহাল করে জানানো হয়, চা-পর্যটন (Tea Tourism), হোম-স্টে, ইকো-ট্যুরিজম ও সহযোগী শিল্পের বিকাশের জন্য মোট মঞ্জুরিকৃত এলাকার 15 শতাংশের বেশি জমি ব্যবহার করা যাবে না।
গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর পূর্বতন সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। উত্তরবঙ্গের চা বাগানের জমিতে বড়সড় কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, নিয়ম শিথিল করে দুর্নীতির পথ তৈরি করতেই আগের জমানায় জমির ঊর্ধ্বসীমা 30 শতাংশ করা হয়েছিল। মন্ত্রীর সরাসরি অভিযোগ ছিল, "বেআইনিভাবে জমি বিক্রির টাকা তৃণমূলের নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।" পর্যটনমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে দেন, বাগানকে শুধু চা উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পর্যটনের আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে; তবে সেই পর্যটন বিকাশের নামে চা শিল্পের স্বার্থ কিংবা বাগানের মূল চরিত্র কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।