১৮ বছর আগে, ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ‘মূল চক্রী’ লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ় সৈয়দ-সহ ৬ জনের অনুপস্থিতিতেই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে ভারতে।
হাফিজ় ছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে জাকির-উর-রহমান লকভি এবং সাজিদ মীর, আবু আল-কামা, আসিম ওরফে আবু কাহাফা এবং মেজর আবদুল রহমান পাশা। তারা কেউই এখনও মুম্বই পুলিশ বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে ধরা পড়েনি। কিন্তু তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, শীঘ্রই এই ব্যাপারে প্রোক্লেমেশন রিপোর্ট আদালত দাখিল করবেন বিশেষ সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম।
আইন বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই প্রক্রিয়াকে বলে ‘ইন অ্যাবসেনশিয়া ট্রায়াল’ বলে। এই প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত সশরীরে আদালতে হাজির না থাকলেও বিচারপ্রক্রিয়া চলে। সেই ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের তরফে আইনজীবী নিয়োগেরও সংস্থান রয়েছে। যাতে বিচারপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ভাবে এবং আইন মেনেই হয়। বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হন, সাজা ঘোষণা করে রাখা হয়। পরে যখনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে, সেই সাজা কার্যকর করা হবে। নতুন করে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কাঁধে বন্দুক ও গোলা–বারুদের ঝোলা নিয়ে আরব সাগর পেরিয়ে দক্ষিণ মুম্বইয়ে ঢুকে পড়েছিল ১০ জঙ্গি। তার পরে টানা তিন দিন ধরে চলে হত্যাকাণ্ড। ঠান্ডা মাথায় ১৬৪ জনকে খুন করা হয়। যাঁদের মধ্যে ২৮ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। গুরুতর জখম হলেও বরাতজোরে বেঁচে যান ৩০০ জন।
মুম্বইয়ে পা রেখে ২৬ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ প্রথমে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস রেল স্টেশনে হামলা চালায় ইসমাইল খান ও আজমল কাসভ। তার পর একে একে কামা হাসপাতাল, লিওপল্ড ক্যাফে,তাজ হোটেল এবং ওবেরয় রিসর্টের সদর দপ্তর এবং নরিম্যান হাউসে হামলা চালানো হয়। দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টা গুলি বিনিময়ের পর জঙ্গিদের নিকেশ করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আজমল কাসভ ছাড়া সকলেরই মৃত্যু হয়। ২৭ তারিখ ভোরেই আহত অবস্থায় কাসভকে গ্রেপ্তার করে ফেলে পুলিশ। ৩০ নভেম্বর জেরায় অপরাধ কবুল করে সে।