সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি দেওয়া নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের টানাপড়েন অজানা নয়। শুক্রবার শিলিগুড়িতে SSB-র ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে দাঁড়িয়ে সেই প্রসঙ্গ তুলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই সঙ্গে ভূয়সী প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। অমিত শাহ সোজাসুজি বলে দিলেন, ‘এখন ফোন করলেই কাজ হয়ে যায়, চিঠি পরে পাঠানো হয়।’
গত ১৫ বছর 'সীমা সুরক্ষা বল' (এসএসবি)-এর কোনও অনুষ্ঠানেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত হতেন না বলে অভিযোগ। পালাবদলের পরে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু এসেছেন জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘শুভেন্দুজি বলছিলেন, এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এসএসবির অনুষ্ঠানে এলেন। কিন্তু আগেও আমন্ত্রণ জানানো হতো। তিনি আসতেন না।’ তৃণমূল নেত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘২০১৪ থেকে ১১২৯ একর জমি চাইছি। তাঁর হাতে-পায়ে ধরে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু জমি দেননি।’
শুভেন্দুকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন অমিত শাহ। তাঁর কথায়, ‘এখন ফোন করলেই রাজ্য সরকারের অনুমতি চলে আসে। চিঠি পরে যায়।’ শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রথম দিন থেকেই সীমান্ত সুরক্ষায় জোর দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, ‘চিকেনস নেককে সুরক্ষিত করতে ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। শুভেন্দুজি মুখ্যমন্ত্রী হয়েই সেই অনুমোদন দিয়েছলেন।’ চিকেনস নেকের নিরাপত্তায় ত্রিকোণ সুরক্ষা গ্রিড বানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। শাহ জানিয়েছেন, চোপড়া, কিষানগঞ্জ এবং ধূপগুড়ি, এই তিন বেস থেকে পুরো শিলিগুড়ি করিডরের উপরে নজরদারি চলছে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের নিরাপত্তার কথা বলতে গিয়ে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরমের’ প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। অমিত শাহের কথায়, ‘স্বাধীনতার পরেও পুরো বন্দে মাতরম গাওয়া হতো না। আমার দুঃখ হতো। নতুন নিয়মে জাতীয় গানকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।’ এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর কথা আরও ভালো ভাবে জানতে পারবে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অমিত শাহের পরে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এসএসবি-র গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁকে আমন্ত্রণ করার জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান। অমিত শাহকে চাণক্যর সঙ্গে তুলনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘তিনি চাণক্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে অমিত শাহজি সীমান্ত সুরক্ষিত করেছেন।’ ২০৪৭-এ বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বেশি অবদান থাকবে বলে আশা শুভেন্দুর।
১. শিলিগুড়িতে কী নিয়ে অমিত শাহ মন্তব্য করেছেন?
সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি দেওয়া, শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা এবং এসএসবি-র ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
২. শুভেন্দু অধিকারীর কী প্রশংসা করেছেন অমিত শাহ?
শাহ বলেন, এখন ফোন করলেই রাজ্য সরকারের অনুমতি পাওয়া যায় এবং পরে চিঠি পাঠানো হয়। সীমান্ত সুরক্ষায় শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
৩. চিকেনস নেকের নিরাপত্তায় কত জমি প্রয়োজন ছিল?
অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, চিকেনস নেককে সুরক্ষিত করতে ৫৬০ একর জমি প্রয়োজন ছিল এবং শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই অনুমোদন দিয়েছেন।
৪. কোন কোন জায়গা থেকে শিলিগুড়ি করিডরে নজরদারি চলছে?
শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, চোপড়া, কিষানগঞ্জ ও ধূপগুড়ি—এই তিনটি বেস থেকে গোটা শিলিগুড়ি করিডরের উপর নজরদারি চলছে।
৫. ‘বন্দে মাতরম্’ নিয়ে কী বলেছেন অমিত শাহ?
স্বাধীনতার পরেও পুরো ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া হত না বলে মন্তব্য করেন শাহ। নতুন নিয়মে জাতীয় গানকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
৬. অমিত শাহকে নিয়ে কী বলেছেন শুভেন্দু?
শুভেন্দু অধিকারী অমিত শাহকে ‘চাণক্য’ বলে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে শাহ সীমান্ত সুরক্ষিত করেছেন বলেও প্রশংসা করেন তিনি।