• আইএসএফ থেকে পদত্যাগ আরাবুলের, পাল্টা দিলেন নওশাদ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২১ আগস্ট ২০২৬
  • সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন আরাবুল ইসলাম। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আইএসএফের স্বৈরাচার ও একনায়কতন্ত্রকে আমি ধিক্কার জানাই।’ অন্য একটি পোস্টে তাঁর অভিযোগ, ‘আইএসএফের লুম্পেন বাহিনীর হাতে ভাঙড় জুড়ে যেভাবে অত্যাচার-অনাচার নেমে এসেছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আমি এই দল থেকে পদত্যাগ করলাম।’

    বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল। ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে অবশ্য তিনি থেকে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বদলে যায় রাজনৈতিক সমীকরণ। আরাবুলের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার তোড়জোড় শুরু করে আইএসএফ।

    গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আরাবুলের নেতৃত্বে ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। সেখানে আইএসএফ পাঁচটি আসনে জয়ী হয়েছিল। বাকি আসনগুলি ছিল তৃণমূলের দখলে। পরে তৃণমূল ছেড়ে কয়েকজন সদস্য আইএসএফের পাঁচ সদস্যের সঙ্গে যোগ দেন এবং আরাবুলের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার উদ্যোগ শুরু হয়। বিষয়টি গড়ায় আদালতে। গত ১৩ অগস্ট ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।

    তার পর থেকেই আইএসএফের সঙ্গে আরাবুলের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এবার সরাসরি সামাজিক মাধ্যমে দলকে ‘স্বৈরাচারী’ ও ‘একনায়কতান্ত্রিক’ বলে আক্রমণ করে দল ছাড়ার কথা জানালেন তিনি।

    তবে আরাবুলের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর দাবি, দল ছেড়ে বেরিয়ে গেলেও আরাবুলের বিরুদ্ধে কথা বলতে তিনি পিছপা হবেন না। নওশাদের কথায়, ‘তিনি দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন বলেই তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলব না, তা নয়। তবে আমরা গ্রামের দিকে কিছু প্রাণীকে মুখে জাল দিয়ে রাখি, যাতে তারা নোংরা কিছুতে মুখ না দেয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই সব প্রাণী মাঝেমধ্যেই নোংরা জঞ্জালে মুখ দেয়।’

    আরাবুলকে অতীতে দলে নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নওশাদ বলেন, ‘যখন তাঁকে নেওয়া হয়েছিল, তখনই আমি বলেছিলাম— তাঁকে শুধরাবার একটি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’

    বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের জন্য প্রাণপাত করলেও দল তাঁকে বারবার অপমান করেছে। সেই ক্ষোভ থেকেই তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনের কয়েক মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণ ফের বদলে গেল। এবার নওশাদের দলের বিরুদ্ধেই প্রায় একই ধরনের অভিযোগ তুলে আইএসএফ ছাড়ার ঘোষণা করলেন আরাবুল।

    আরাবুলের অভিযোগ, আইএসএফে একনায়কতন্ত্র চলছে। তাঁর আরও অভিযোগ, ভাঙড়জুড়ে দলের ‘লুম্পেন বাহিনী’ সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। এর প্রতিবাদেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শওকত মোল্লার প্রভাবে তৃণমূলে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ার পরই আইএসএফে যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল। এবার সেই দলও ছাড়লেন তিনি। ফলে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক গন্তব্য কী হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

    ২০০৬ সালে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সিপিএম প্রার্থী মোশাররফ হোসেন লস্করকে হারিয়ে তৃণমূলের বিধায়ক হয়েছিলেন আরাবুল। সে সময় বিধানসভায় তৃণমূলের মোট ৩০ জন বিধায়কের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তবে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নান্নু হোসেনের কারণে তৃণমূলের ভোটে ভাঙন ধরে। সেই নির্বাচনে সিপিএমের বাদল জমাদারের কাছে পরাজিত হন আরাবুল। এরপর ধীরে ধীরে দলে তাঁর গুরুত্ব কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃতও হন তিনি।

    এখন মূল প্রশ্ন, আইএসএফ ছাড়ার পর আরাবুল ইসলামের পরবর্তী রাজনৈতিক গন্তব্য কোথায়? বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণও বদলেছে। একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন। সেই পরিস্থিতিতে আরাবুল কি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দিকে ঝুঁকবেন? রাজনৈতিক মহলে উঠছে সেই প্রশ্নও। তবে আরাবুল সেখানে যোগ দিতে চাইলেও তাঁকে সেই শিবির স্বাগত জানাবে কি না, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)