যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার রাতে অশান্তির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন সেখানকার কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার দুপুরে ইমেল করে যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অন্য দিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাক্রম নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন রাজ্যের বিজেপি পরিচালিত সরকারের কোনও প্রতিনিধি। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যাদবপুরে নানা ধরনের রাজনৈতিক উস্কানির নিন্দা করেছেন। দলের নয়, গোটা বক্তব্যই তাঁর নিজের জানিয়ে অর্থমন্ত্রীর আহ্বান, রাজনৈতিক লোকজন যেন যাদবপুরের ঘটনায় কোনও প্ররোচনা দেওয়া থেকে দূরে থাকেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বুধবার, অর্থাৎ ২০ অগস্ট রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ কিছু অজ্ঞাতপরিচয় বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে হিংসা ছড়িয়েছেন। ভাঙচুর চালিয়েছেন। সিসিটিভি-সহ নানা সম্পত্তিও ধ্বংস করেছেন। অরবিন্দ ভবনের সামনে অগ্নিসংযোগও করা হয়। শুধু তা-ই নয়, কলাপসিবল গেটের ফাঁক দিয়ে অরবিন্দ ভবনের ভিতরে জলন্ত জিনিসও ছুড়ে মারা হয়। এতে যাঁরা ভিতরে ছিলেন, তাঁদের আঘাত পাওয়া, এমনকী প্রাণ সংশয়েরও সম্ভাবনা ছিল। বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলের গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকারও চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের কাছে উপাচার্যের অনুরোধ, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে যেন অবিলম্বে এফআইআর রুজু করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্তে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করবেন বলেও জানানো হয়েছে চিঠিতে। পুলিশের তরফেও জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তও শুরু হয়েছে তার ভিত্তিতে।
যাদবপুর কাণ্ড নিয়ে বিতর্কের মাঝে শুক্রবার দুপুরে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো করে বার্তা দেন স্বপন। তিনি বলেন, ‘ছাত্রেরা নিজেদের ব্যাপার বুঝে নিক। লেট দেম ডিসাইড দেয়ার ওন কোর্স অফ অ্যাকশন। এতে বাইরের লোকে যতটা সম্ভব হস্তক্ষেপ না-করার নীতি গ্রহণ করুক। আমরা বলি, দুর্গাপুজোয় আমরা রাজনৈতিক ভাবে জড়িত হতে চাই না। সব রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও যেন যাদবপুরের কোনও কিছুতে ধুয়ো দেওয়ার থেকে যেন বিরত থাকেন। নানা ভাবে প্ররোচনা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ছাত্ররা, সাধারণ লোকেরা যেন তাতে আলোড়িত না হন।’
যাদবপুরের ঐতিহ্যের প্রতীক নন্দলাল বসুর তৈরি শিল্পকর্মটির প্রতিকৃতির অসম্মানও কাম্য ছিল না বলেই মনে করেন রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক স্বপন। রাসবিহারীর পাশের কেন্দ্রই যাদবপুর। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই ধরনের ছাত্র সংঘাতের কথা ঘটনা যাদবপুর বা রাজ্যের জন্য নেতিবাচক। ভুলভাল কারণে আবারও যাদবপুর শিরোনামে এল। আমি আশা করব, দ্রুত যাদবপুরে শান্তি ফিরবে। যাদবপুর উৎকর্ষের পথে অবিচল এগোতে পারবে, যাতে আমরা রাজ্যের শিক্ষা নিয়ে গর্ব করতে পারি।’