অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে জেলায় জেলায় বিক্ষোভের মাঝেই বড় চক্রান্তের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সরকারি স্তরে বহু জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন রয়েছে। তাঁদের কারণেই অন্নপূর্ণা যোজনায় এত সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি করলেন তিনি। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাশাসক দপ্তরে একটি বৈঠকের মাঝেই এ দিন মন্ত্রীকে মহিলাদের বিক্ষোভের মাঝে পড়তে হয়। যাঁরা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন না, তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিডিও/এসডিও অফিসে অভিযোগ জানানোর ব্যাপারেও নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
মহিলাদের বিক্ষোভ সংক্রান্ত বিষয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘আমার বলতে খারাপ লাগছে কিন্তু ভিতরে অনেক তৃণমূলের সব লোক বসে আছে। যাঁরা অনেক গন্ডগোল পাকাচ্ছেন। তাঁরা দেখে দেখে যাঁরা যোগ্য তাঁদেরকে না দিয়ে অযোগ্যদের দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে যোগ্যরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। বিষয়টা সবই রাজনীতির অংশ। ধীরে সুস্থে সব ঠিক হয়ে যাবে।’ বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানাবেন বলেও জানালেন অগ্নিমিত্রা।
শুক্রবার মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল মেদিনীপুর শহরের ধর্মায় বিধায়ক কার্যালয়ে এসেছিলেন। সেই সময়েও মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনায় না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ দেখান মন্ত্রীকে ঘিরে। এর পরে মন্ত্রী গিয়েছিলেন রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। সেখান থেকে জেলাশাসকের অফিসে মিটিং হলে একটি প্রশাসনিক সভায় যোগ দেন। সেই সভায় যোগ দেওয়ার সময়েও অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বঞ্চিত মহিলারা ক্ষোভের কথা জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৭ অগস্ট থেকে এ মাসের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু করে রাজ্য সরকার। সরকারের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, প্রাথমিক ভাবে মোট ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদনপত্র খতিয়ে দেখা হয়েছে। নথি যাচাইয়ের পরে একাধিক ত্রুটির কারণে প্রায় ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল হয়েছে। বর্তমানে মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ যোগ্য উপভোক্তা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। তাঁদের ২০ অগস্টের মধ্যে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অনেকেই টাকা না পেয়ে বিক্ষোভে সামিল হন।