• তারেক বরণের মহড়া বাতিল রাষ্ট্রপতি ভবনের, প্রশ্নের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর
    প্রতিদিন | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • আদৌ ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? গত কয়েকদিন ধরে এই ইস্যুতে নানা জল্পনার মাঝেই শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি সামনে এসেছে। তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানাতে এর আগে মহড়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাষ্ট্রপতি ভবন। সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে তা বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি ভারত সফরে আসছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী?

    রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে শুক্রবার যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ‘শনিবারের গার্ড সেরেমনি অনুষ্ঠান হচ্ছে না। ২১ আগস্ট যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল তা বাতিল করা হচ্ছে।’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পূর্ণ মহড়া চালানোর একটি বিজ্ঞপ্তি এদিনই রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে দেওয়া হয়েছিল। তবে আগের বিজ্ঞপ্তির মাত্র এক ঘণ্টা পরই নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হল। যেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, বাতিল করা হয়েছে মহড়া। এই ঘটনায় কূটনৈতিক মহলের আনুমান, যাবতীয় জল্পনা শেষে এই ঘটনায় স্পষ্ট যে ভারত সফরে আসছেন না তারেক রহমান।

    দিনকয়েক আগে খবর ছড়াচ্ছিল, চলতি সপ্তাহে ভারত সফরে আসতে পারেন তারেক। সেই জল্পনা অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রকের আধিকারিক এ কে এম শহিদুল করিম। তিনি জানান, “প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। সেটা হচ্ছে কিনা আমরা আপাতত সেদিকে নজর রাখছি। তাই বলতে চাই, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে যে আবেদন করেছি, সেই নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক ভারত।” এখানেই শেষ নয়, ঢাকা দাবি জানায়, ওসমান হাদি খুনের দুই অভিযুক্তকেও দ্রুত প্রত্যর্পণ করুক ভারত। যদিও এরপর গত কয়েকদিনে একাধিক আলোচনায় এই সফর সম্পর্কে সবুজ সংকেত দেখা যায়। কিন্তু কূটনৈতিক মহলের মতে, শেষ পর্যন্ত হাসিনা ইস্যুতেই কাঁটা পড়েছে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে।

    উল্লেখ্য, দু’বছরেরও বেশি সময় ভারতের আশ্রয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বদেশে তাঁর বিচার হয়েছে, ফাঁসির সাজা ঘোষণা হয়েছে। হাসিনাকে ঢাকার হাতে প্রত্যর্পণ নিয়ে ইতিমধ্যে দু’দেশের মধ্যে চাপানউতোর পর্ব চলেছে। হাসিনা নিজে গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে ভারচুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে দৃঢ়কণ্ঠে জানিয়েছেন, মৃত্যু পরোয়ানা নিয়েই তিনি ডিসেম্বর অর্থাৎ স্বাধীনতার মাসে দেশে ফিরবেন। সূত্রের খবর, হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালতই। সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে দু’দেশের শীর্ষস্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর।
  • Link to this news (প্রতিদিন)