হাতে লেগে শিখদের রক্ত! এখনও সজ্জন কুমারের পাশে কংগ্রেস, নিন্দা আপ-বিজেপির
প্রতিদিন | ২২ আগস্ট ২০২৬
শিখ-বিরোধী দাঙ্গায় দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমারের মৃত্যু হয়েছে। তিহাড় জেলে যাবজ্জীবন সাজা খাটছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেখানেই ৮০ বছর বয়সে মৃত্যু হয় তাঁর। আর এই মৃত্যু ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গার ঘটনা। কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমারের সমর্থন করতেই পাঞ্জাবে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর। কংগ্রেসকে একহাত নিল আপ-বিজেপি।
কংগ্রেস সাংসদ দীপেন্দর সিং হুডা কুমারের মৃত্যুকে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, তাঁকে সারা দেশে এক ‘আদর্শ ব্যক্তিত্ব’ বা রোল মডেল হিসেবে গণ্য করা হত। কংগ্রেস নেতা উদিত রাজও কুমারের মৃত্যুকে দলের জন্য ‘এক বিশাল ও অপূরণীয় ক্ষতি’ বলে বর্ণনা করেছেন। কংগ্রেস নেতাদের এই মন্তব্যের পরেই সমালোচনার ঝড়। কংগ্রেসের ‘সমর্থন’কে হাতিয়ার করে নিশানা করেছে বিজেপি। কংগ্রেসের উদ্দেশে তাদের প্রশ্ন, রাহুল গান্ধী যখন ‘মহব্বত কি দোকান’-এর কথা বলেন, তখন ১৯৮৪ সালের সহিংসতায় দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তিকে কীভাবে দল সম্মান জানাতে পারে।
শিরোমণি অকালি দলও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। দলের প্রবীণ নেতা দলজিৎ সিং চিমা বলেছেন, “সজ্জন কুমারের মৃত্যুর পরেও আপনারা এখনও তাঁর পক্ষ নিচ্ছেন! ১৯৮৪ সালের পর থেকে ৪০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, আর এই দীর্ঘ সময়ে আপনারা ক্রমাগত তাঁর হয়ে সাফাই গেয়েছেন। এমনকি এখনও যদি কংগ্রেস নেতারা তাঁর পক্ষ নেন,তা অত্যন্ত দুঃখজনক।” সমালোচনায় শামিল আম আদমি পার্টিও। আপ নেতা বলতেজ পান্নু বলেছেন, “সজ্জন কুমারের মৃত্যু সংখ্যালঘুদের প্রতি কংগ্রেসের আসল মনোভাব সামনে এনে দিয়েছে। তবে পাঞ্জাবের বাইরের নেতারা প্রকাশ্যে সজ্জন কুমারের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রকাশ করলেও পাঞ্জাবের কোনও শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতা এ বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেননি।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ইন্দিরা গাধীকে খুন করে তাঁর শিখ দেহরক্ষীরা। তার পরেই দেশ জুড়ে শিখ সম্প্রদায়ের উপরে হামলা শুরু হয়। প্রভাবশালী জাঠ নেতা সজ্জন কুমার, জগদীশ টাইটলার-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতা সেই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বর দিল্লির রাজনগর এলাকায় একটি শিখ পরিবারের পাঁচ জন সদস্যকে খুন করা ও একটি গুরুদ্বারে অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল সজ্জন কুমারের বিরুদ্ধে। এছাড়াও দাঙ্গায় টার্গেট করা হয়েছিল শিখ সম্প্রদায়ের দোকান-বাজারকেও। সরকারি হিসাবে ওই দাঙ্গায় মৃত্যু হয়েছিল তিন হাজার মানুষের। বেসরকারি মতে সংখ্যাটা এর কয়েক গুণ বেশি।
উল্লেখ্য, পাঞ্জাবে আসন্ন ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন। দলের রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে আগামী মাসের শুরুতেই রাহুল গান্ধী পাঞ্জাব সফরে যেতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের নীরবতায় স্পষ্ট যে, রাজনৈতিক আখেড় গোছাতেই সজ্জন-শোক নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাইছে না পাঞ্জাব কংগ্রেস!