‘শান্তি চাইলে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিন’, প্রতিবেশীকে নিয়ে দেশকে সতর্ক করলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান
প্রতিদিন | ২২ আগস্ট ২০২৬
ভারতের জন্য ক্রমশ বিপদের কারণ হয়ে উঠছে প্রতিবেশী! এই ইস্যুতেই এবার সরকারকে সতর্ক করলেন দেশের প্রাক্তন সেনা প্রধান এম এম নারাভানে। আগামী দিনে চিনকে ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে জানালেন, ভারত চিন ও পাকিস্তান উভয়ের সঙ্গেই যুদ্ধ করেছে। উভয়ের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদ রয়েছে আমাদের। তাই এই দুই দেশ ভারতের জন্য সর্বদা চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে। সরকারকে সতর্ক করে সেনাপ্রধান আরও জানান, ‘যদি শান্তি চান, তবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হন।’
নিজের নতুন বই ‘দ্য কিউরিয়াস অ্যান্ড দ্য ক্লাসিফায়েড: আনআর্থিং মিলিটারি মিথস অ্যান্ড মিস্ট্রিজ’-এর প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান নারাভানে। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের ক্রমাগত হুমকির জেরে ভারতের মূল লক্ষ্য বরাবর পাকিস্তানের উপরেই ছিল। কিন্তু দূরদর্শী দিক থেকে চিন ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে চলেছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্য সামরিক-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে।”
এ প্রসঙ্গে নারাভানের বার্তা, ‘যদি শান্তি চান, তবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হন।’ তবে চিন প্রসঙ্গে ‘শত্রু’ শব্দটির ব্যবহার এড়িয়ে তিনি বলেন, “বেজিংয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের পাশাপাশি শক্তিশালী সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাও তৈরি রাখতে হবে ভারতকে।”
২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সেনাপ্রধান পদে ছিলেন নারাভানে। তাঁর আমলেই গালওয়ানে মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়েছিল চিন ও ভারতের সেনা। ভবিষ্যতের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত হওয়ার বার্তা দিয়ে নারাভানে বলেন, “ভারতের উচিত শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনৈতিক উপায়ে চীনের সঙ্গে মতপার্থক্য নিরসন করা। শক্তি প্রয়োগ সর্বদা শেষ উপায় হওয়া উচিত। তবে এটাও ঠিক সে, সম্ভাব্য যে কোনও অনাকাঙ্খিত পদক্ষেপ প্রতিহত করতে ভারতকে সামরিকভাবে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।”