৩ ঘণ্টার সফরে প্রেম, ঘুরতে এসে ট্যাক্সি চালকের গলাতেই মালা পরালেন বিদেশিনী!
প্রতিদিন | ২২ আগস্ট ২০২৬
সামান্য স্যুটকেস হাতে ভারত সফরে এসেছিলেন বিদেশিনী। তবে বাড়ি ফিরলেন একেবারে পরিবার সঙ্গে নিয়ে। বেড়াতে এসে তিন ঘণ্টার ট্যাক্সি সফরে ট্যাক্সি চালককে শুধু মনই দিলেন না, একেবারে বিয়ে সেরে ফেললেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণী লরেনা স্টেফনি। সিনেমার গল্পের মতো অদ্ভুত এই প্রেমের পটভূমি ভারতের দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ু।
ঘটনার সূত্রপাত ২ বছর আগে লরেনা ভারত বেড়াতে এসেছিলেন তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে। বিমানবন্দরে অবতরণের পর সেখানে রবিক নামে এক যুবকের ট্যাক্সিতে সওয়ার হন তিনি। মাত্র ৩ ঘণ্টার ছিল সেই সফর। লরেনা বুঝতেও পারেননি এই সফর তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে চলেছে। ‘পিপল অফ ইন্ডিয়া’ নামে এক ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে শেয়ার হয়েছে লরেনা ও রবিকের জীবনের এই গল্প। যা ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। লরেনা বলেন, আমি ভাবতেও পারিনি যার ট্যাক্সিতে আমি সওয়ার হয়েছি, তিনি পরে আমার স্বামী হবেন আমার সন্তানের বাবা হবেন। তাঁদের কথায়, ওই সফরে তাঁদের মধ্যে এক বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল। যোগাযোগ ছিল, পরে তা গভীর বন্ধুত্বের জায়গা নেয়।
দু’জনের দাবি, এই সফরে বন্ধুত্বের শুরুটা হয়। অল্পদিনেই আমরা বুঝতে পারি যে আমরা প্রেমে পড়েছি। লরেনা ক্যাথলিক এবং রবিক মুসলিম। দুই ভিন্ন দেশ ও ধর্মের মানুষ এক সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হন। লরেনা বলেন, ‘সমস্যা ছিল। কিন্তু প্রতিটি বাধাই আমাদের আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরতে শিখিয়েছে।’ অল্প দিনেই এই তরুণ-তরুণী সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা বিয়ে করবেন। এবং ভারতীয় আইনি পদ্ধতিতে বিয়েও সম্পন্ন করেন তাঁরা। ভারতে একসঙ্গে দীর্ঘদিন থাকার পর অস্ট্রেলিয়া ফিরে যান লরেনা। সেখানেই জন্ম নেয় তাঁদের সন্তান। সেই সময় অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন জানিয়েছিলেন রবিক। কিন্তু ভিসা মঞ্জুর হয়নি। সন্তান বড় হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়। ২ মাস আগে অস্ট্রেলিয়া গিয়ে সেই সন্তানকে কোলে নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল রবিকের। কিন্তু আবার ফিরে আসতে হয়। ভিসার প্রক্রিয়া চলছে। লরেনা ও রবিকের আশা যাবতীয় জটিলতা কাটিয়ে একদিন একছাদের নিচে একসঙ্গে থাকতে পারবেন তাঁরা। সেইদিন একত্রিত হবে গোটা পরিবার।
লরেনা বলেন, ‘আমাদের ছোট্ট পরিবারটি দুটি দেশে ছড়িয়ে আছে। আমি এখানে আমাদের মেয়েকে বড় করছি, আর রাবিক সেই দিনের অপেক্ষায় আছে যেদিন সে আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারবে। দূরত্ব পার করতে ভিসার প্রক্রিয়া চলছে। অপেক্ষা বাড়াচ্ছে ভালবাসা।’ লরেনা বলেন, ”এতকিছুর সঙ্গে লড়াই করার পর এটা স্পষ্ট যে কোনও কিছুই আর আমাদের ভাঙতে পারবে না।” লরেনা বলেন, “আমি পর্যটক হিসেবে ভারতে এসেছিলাম, সেখানে খুঁজে পেলাম আমার ঘর। আমার সঙ্গী। আমার মেয়ের বাবাকে।”
তিন ঘণ্টার ট্যাক্সি সফর। দুজন মানুষ। আর এক ভালোবাসার গল্প। যা ধর্ম, সীমান্তের যাবতীয় বাধা পেরিয়ে প্রতিদিন এক পা করে আস্ত মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছে সেই দিনের অপেক্ষায়, যেদিন রবিক অস্ট্রেলিয়া যাবে। নিজের মেয়েকে কোলে তুলে চুম্বন করবে। ছোট্ট এই পরিবার এখন সেই দিনের অপেক্ষায়।