যাদবপুরের আদলে এবার প্রেসিডেন্সিতেও অশান্তির ছক! গেটের কাছে এবিভিপি-এসএফআই সংঘর্ষ
প্রতিদিন | ২২ আগস্ট ২০২৬
যাদবপুরের পর এবার প্রেসিডেন্সিতেও একই কায়দায় অশান্তির ছক! শুক্রবার বিকেল নাগাদ কলেজ স্ট্রিটে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এবিভিপি-এসএফআইয়ের বাকবিতণ্ডা, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ক্যাম্পাসে আটকে পড়েন সাধারণ পড়ুয়ারা। আতঙ্ক ছড়ায়। তাঁদের নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। এসএফআইয়ের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে এবিভিপির কোনও সংগঠন নেই। বাইরে থেকে তারা চমকাতে এসেছিল। পালট গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ, যাদবপুরের মতো প্রেসিডেন্সিতেও ‘দেশবিরোধী’ কার্যকলাপ ঘটে, তা আটকাতে হবে।
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবর সক্রিয় আইসি নামের ছাত্র সংগঠন। বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-ও এখানে বেশ দাপুটে। তারাও সারাবছর ধরে নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি করে থাকে। বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা করেছে প্রেসিডেন্সির ছাত্র সংগঠনও। শুক্রবার তাদের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টিকোয় পোস্টার লিখছিলেন। অভিযোগ, এই সময়েই গেটের বাইরে জমায়েত হয়ে এবিভিপি অশান্তি বাঁধানোর চেষ্টা করছিল। এনিয়ে প্রেসিডেন্সির এসএফআই নেতা বিতান ইসলামের দাবি, উত্তর কলকাতার এবিভিপি সংগঠনের জনা ৩০ সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জমায়েত করে। তাঁদের সঙ্গে বহিরাগতরাও ছিল। পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে নানা হুঁশিয়ারি আসতে থাকে। এভিবিপির পালটা অভিযোগ, এই বিশ্ববিদ্যালয়েও ‘দেশবিরোধী’ কার্যকলাপ হয়, তা থামাতে তাঁদের একটু ‘সবক’ শেখানো দরকার।
এবিভিপির হুঁশিয়ারির সময়ে এসএফআই সদস্যরা যাদবপুরের পাশে দাঁড়িয়ে পোস্টার লিখে তা ক্যাম্পাসের দেওয়ালের সাঁটাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেসময়ই তাঁদের লক্ষ্য কুকথা বলতে থাকে গেরুয়াপন্থীরা। পালটা গেটের সামনে এসে বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরাও স্লোগান তোলেন। এতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসএফআই নেতা বিতান ইসলামের বক্তব্য, ‘‘ক্যাম্পাসে যদি এবিভিপি নিজের সংগঠন করে গণতান্ত্রিকভাবে, তাতে আমাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু বাইরে থেকে গুন্ডাসুলভ আচরণ, হুমকি এসব কেন? যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত চিন্তার স্বাধীন পরিবেশ, বেছে বেছে সেখানেই এবিভিপির এসব বাড়াবাড়ি হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”