মেদিনীপুরের বেশ কিছু হোটেল বা শপিংমলে আগুন নেভানোর কোন ব্যবস্থাই নেই। শুক্রবার, মেদিনীপুরে জেলাশাসক দপ্তরে বৈঠক করার পরে পরিদর্শনে গিয়ে সেটাই দেখেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এর পরেই ওই শপিং মল এবং হোটেলগুলিকে ‘সিল’ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুধু ওই হোটেলগুলিকে বন্ধ করার নির্দেশই নয়, একই সঙ্গে অন্যদেরকেও সতর্ক করেছেন পুরমন্ত্রী। আগামী দিনেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে এই রকম কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
হোটেলে অগ্নিকাণ্ড
তারাপীঠের পরে কলকাতার মির্জ়া গালিব স্ট্রিটে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পরে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পর পর দু'দিন দু'টি হোটেলে আগুন লেগে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। ওই হোটেলগুলিতে অগ্নি নির্বাপণ এবং সুরক্ষাবিধি ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ। বিভিন্ন জেলায় অপরিসর এলাকায় এবং নিয়ম না মেনে অনেক হোটেল চলছে বলেও অভিযোগ। এর পরেই কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একাধিক হোটেলে অভিযান চালানোর পাশাপাশি হোটেল মালিকদের নিয়ে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা।
মেদিনীপুরে হোটেল পরিদর্শনে পুরমন্ত্রী
শুক্রবার, মেদিনীপুরের রাজা নরেন্দ্রলাল মহিলা কলেজের সমাবর্তনে যোগ দিতে আসেন রাজ্যের পুর এবং নগর উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাশাসক অফিসে জেলার বিভিন্ন পুরসভার কী সমস্যা আছে এবং তা কী করে সমাধান করা যায় তা নিয়ে বৈঠকও করেন তিনি। ওই বৈঠকেই উঠে আসে অবৈধভাবে নির্মাণ হওয়া বিল্ডিং-এর কথা। এর পরেই মেদিনীপুর শহরের একাধিক হোটেল এবং শপিং মল পরিদর্শনে যান পুরমন্ত্রী। সেখানে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা কেমন রয়েছে সেটা খতিয়ে দেখেন।
হোটেল বন্ধের নির্দেশ
মেদিনীপুর স্টেশন রোডে দু'টি হোটেলে অগ্নি-নির্বাপণের কোনও ব্যবস্থা নেই তাও লক্ষ্য করেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী। নিয়ম না মেনেই ওই হোটেলগুলি চলছে বলেও অভিযোগ। এমন কী সেখানে আগুন লাগলে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই বলেও জানান তিনি। এর পরেই ওই হোটেলগুলি ‘সিজ়’ করার জন্য জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণাকে নির্দেশ দেন অগ্নিমিত্রা পাল। পুরমন্ত্রী বলেন, ‘দু'টি হোটেলে ফায়ার লাইসেন্সই নেই। একটি হোটেলে ফায়ার এক্সিট সিমেন্ট বালির বস্তা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। হোটেলে আগুন লাগলে মানুষ আর বেরোতে পারবেন না। সেই কারণে এই হোটেলগুলি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য জেলাশাসককে বলেছি।’ একই কারণে একটি শপিং মল-ও সিল করে দেওয়া হয়।
টাকার বিনিময়ে কোনও কাজ নয়
আগের সরকারের আমলে টাকার বিনিময়ে, নিয়ম না মানলেও অনেক হোটেলকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। হোটেল বা শপিংমলগুলির এই চরম অব্যবস্থার জন্য আগের সরকারকেই দায়ী করেছেন পুরমন্ত্রী। টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এ বার আর সেই সব হবে না বলেও জানিয়ে দেন তিনি। পুরমন্ত্রী বলেন, ‘হকার উচ্ছেদ এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা জাতীয় কাজ নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তাঁরা এখন কেন হোটেল সিল করছি তা নিয়ে বল্রান। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারোর মৃত্যুর দায় তাঁরা নেন তাহলে আমি এই কাজ করার ছেড়ে দেব। তাহলে কোনও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তার দায় সরকার নেবে না।’
মেদিনীপুরের এই হোটেল এবং শপিং মলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার জন্য অন্যদেরকেও সতর্ক করে দিয়েছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী। সেখানেও কোনও রকম অব্যবস্থা দেখলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।