• রামমন্দির ট্রাস্টের যাবতীয় সিদ্ধান্ত মোদির প্রাক্তন সচিব নৃপেন্দ্রর, অভিযোগ চম্পতের
    বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রামমন্দির ট্রাস্টের মধ্যেই গৃহযুদ্ধপর্ব? ট্রাস্টের সবথেকে শক্তিশালী দুই সদস্যের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সঙ্গে দীর্ঘকাল যুক্ত এবং মন্দির আন্দোলনের শুরু থেকেই রয়েছেন। মন্দিরের প্রণামি চুরির বিতর্কে সর্বাগ্রে তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল উঠেছিল। তাঁর চালককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ট্রাস্টের বাকি কর্তাদের ছেড়ে চম্পৎ রাই ও অনিল মিশ্রকেই প্রবল চাপে করতে হয়েছে পদত্যাগ। আর এসবের পিছনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিশেষ চাপ রয়েছে বলে মনে করা হয়েছে। কারণ প্রণামি চুরি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর প্রথম থেকেই প্রবল ক্ষুব্ধ। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ সরকারের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি) তাদের প্রথম দফার তদন্ত সাঙ্গ করে যে রিপোর্ট দিয়েছে, সেখানে চম্পৎ রাইকে ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ রামমন্দিরের প্রণামি চুরির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ও সন্দেহের ছায়া থেকে মুক্তি পেয়েই চম্পৎ রাই প্রত্যাঘাত করতে শুরু করেছেন। তিনি একাই কেন অনিয়মের দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করবেন এই ক্ষোভ ছিলই। এবার সেটি প্রকট হল। চম্পৎ ৯ পৃষ্ঠার চিঠি প্রকাশ করে বলেছেন, এই চিঠি তিনি রামমন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান নৃপেন্দ্র মিশ্রকে দিয়েছেন। বলেছেন, রামমন্দির নির্মাণের প্রত্যেকটি স্তরের পরিকল্পনা নেওয়া, পরিকাঠামো গঠনের প্রত্যেক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী এক ও একমাত্র নৃপেন্দ্র মিশ্র। নামে ট্রাস্ট ও একঝাঁক সদস্য থাকলেও সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নিয়ে চলেছেন নৃপেন্দ্র মিশ্র। এমনকি ট্রাস্টের সদস্যদের পক্ষ থেকে কোনও প্রস্তাব, পরামর্শ দেওয়া হলেও সেটি নানাভাবে পরিবর্তন করা হত। অথবা প্রত্যাখ্যান করে অন্য পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত করা হয়। নৃপেন্দ্র মিশ্র যা চাইবেন, তাই হবে। যদিও এই চিঠিতে প্রণামি চুরি নিয়ে চম্পৎ রাই একটিও কথা বলেননি। আবার তিনি সরাসরি কোনও অভিযোগও তোলেননি। কিন্তু রামমন্দির নির্মাণকার্য যে এতদিন পরও সমাপ্ত হল না এবং ২০২৭ সালের আগে সম্পূর্ণ হবেও না, এই তথ্য সম্প্রতি জানাজানি হওয়ার পরই চম্পৎ রাই এভাবে নির্মাণের সব দায় নৃপেন্দ্র মিশ্রকে দিলেন। শুক্রবার এ ব্যাপারে নৃপেন্দ্র মিশ্র তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। বলেছেন, আমি এরকম কোনও চিঠি পাইনি। সত্যি-মিথ্যা জানিও না। মিডিয়াকে দোষারোপ করে বলেছেন এসব আপনাদের অপপ্রচার। প্রসঙ্গত নৃপেন্দ্র মিশ্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশ্বস্ত এবং তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব। বস্তুত মোদির আস্থাভাজন হওয়ার কারণেই তিনি রামমন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠছে রামমন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান মোদির আস্থাভাজন। আবার রামমন্দির তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কয়েকজন সদস্য এবং সাধারণ সম্পাদক যোগী আদিত্যনাথ ঘনিষ্ঠ। তাঁরা প্রত্যক্ষভাবে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে যুক্ত। রামমন্দিরকে কেন্দ্র করে অদৃশ্য এক অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)