প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ শিশুই বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়া: কেন্দ্র
বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
নয়াদিল্লি: সরকারি স্কুলে কমছে পড়ুয়ার সংখ্যা। এই উদ্বেগ নতুন নয়। এবার খোদ কেন্দ্রের রিপোর্টেই হাতেনাতে মিলল প্রমাণ। শিক্ষামন্ত্রকের ‘ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাসে’র রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের প্রতি ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জনই বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে।
গত এক বছরে বেসরকারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষ বেড়েছে। আর সরকারি স্কুলে পড়ুয়া কমেছে প্রায় ২৭ লক্ষ। রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান আরও চমকে দেওয়ার মতো। ১২টি রাজ্য এবং দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট পড়ুয়ার অর্ধেকেরও বেশি পড়াশোনা করে বেসরকারি স্কুলে। তেলেঙ্গানায় বেসরকারি স্কুলে পড়ুয়ার হার সর্বাধিক—প্রায় ৬৪.৫ শতাংশ। হরিয়ানা ও উত্তরাখণ্ডে প্রায় ৬২ শতাংশ। রিপোর্ট বলছে, ২০১৮-১৯ সালে বেসরকারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ২২ লক্ষ। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৯ কোটি ৮৯ লক্ষ। একই সময়ে সরকারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১৩ কোটি ১১ লক্ষ থেকে কমে হয়েছে ১১ কোটি ৮৯ লক্ষ। শুধু পড়ুয়া নয়, কমেছে সরকারি স্কুলের সংখ্যাও। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালে প্রায় ৭৯ হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়েছে। সেই একই সময়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার বেসরকারি স্কুল। রিপোর্ট অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুলে পড়ুয়াপিছু বছরে শিক্ষা সংক্রান্ত গড় খরচ প্রায় ২৮,৬৯৩ টাকা। সরকারি স্কুলে সেই খরচ মাত্র ২,৮৬৩ টাকা। সবার পক্ষে এই খরচ সামলানোর ক্ষমতা নেই। তাই হয়তো কয়েকটি বড়ো রাজ্যে উলটো ছবি ধরা পড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে, বিহার, গোয়া ও ঝাড়খণ্ডে বেসরকারি স্কুলে পড়ুয়ার হার ২০ শতাংশের নীচে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা ১০ শতাংশেরও কম। তবে বাংলায় পড়ুয়ারা বেসরকারি টিউশনের উপর অধিক নির্ভর। ২০২২ সালের বার্ষিক শিক্ষা পরিস্থিতি সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ৭৩.৯ শতাংশ পড়ুয়া টাকা দিয়ে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়েছে। এক্ষেত্রে গোটা দেশের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ। কেন্দ্রের রিপোর্টে আরও উল্লেখ রয়েছে, হাইস্কুলের মতো প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরেও বেসরকারি স্কুলের প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ বাড়ছে। ২০২৫-২৬ সালে প্রাক-প্রাথমিক বা কিন্ডারগার্টেনের প্রায় ৭১ শতাংশ পড়ুয়া এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ৪০ শতাংশ পড়ুয়া বেসরকারি স্কুলে ছিল। প্রাথমিক স্তরে বেসরকারি স্কুলে পড়ুয়ার হার ২০২১-২২ সালের ৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে হয়েছে ৩৯.৯ শতাংশ। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি? বিশেষজ্ঞদের দাবি, অভিভাবকদের স্কুল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম বড়ো ভূমিকা নিচ্ছে। ২০২৪-২৫ সালে দেশের বেসরকারি স্কুলগুলির ৪৩.৯ শতাংশ ছিল ইংরেজি মাধ্যম। ২০১৯-২০ সালে এই হার ছিল ৩৮.২ শতাংশ। এই চার বছরে ইংরেজি মাধ্যম বেসরকারি স্কুলে পড়ুয়ার হার ৫১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০.৭ শতাংশ। নীতি আয়োগের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে অভিভাবকদের ধারণা বেসরকারি স্কুলের চাহিদা বাড়াচ্ছে। মহারাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তথা শিক্ষাবিদ হেরাম্ব কুলকার্নির মতে, পুরসভা বা জেলা পরিষদ পরিচালিত স্কুলগুলির প্রতি অভিভাবকদের অসন্তোষের কারণেই অনেকে বেসরকারি স্কুলের দিকে ঝুঁকছেন। তবে বেসরকারি স্কুল মানেই শিক্ষার মান ভালো—এমনটা নয়।