বলপাহাড়িতে ব্যারাজ তৈরির উদ্যোগ, ঝাড়খণ্ডের বাংলায় সেচের জল নিয়ে উৎকণ্ঠা
বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: বাংলার বন্য নিয়ন্ত্রণে ডিভিসির বিরাট ভূমিকা রয়েছে। শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ করাই নয়, বাংলার নানা প্রান্তে সেচের জল পৌঁছে দেওয়াও প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ডিভিসির। সেচের জন্য মূলত জল ছাড়া হয় মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে। সেই মাইথন জলাধারের উপরে বরাকর নদীর উপর বলপাহাড়িতে ব্যারাজ করতে উদ্যোগী ঝাড়খণ্ড সরকার। সেখানকার বিধানসভায় তা নিয়ে বিশেষ অনুমোদনও করিয়ে নিয়েছে হেমন্ত সোরেনের সরকার। এই ব্যারাজ হলে শীত ও গ্রীষ্মকালে মাইথন থেকে পর্যাপ্ত পানীয় ও সেচের জল পাওয়া যাবে তো? উঠছে প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন ইতিমধ্যেই ‘সিমুলেশন স্টাডি’ শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারি এক আমলার দাবি, বাংলার সেচের জল পাওয়া নিশ্চিত হলেই ব্যারাজ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে।
ডিভিসির অধীনে বর্তমানে রয়েছে মাইথন, কোনার, তিলাইয়া ও পাঞ্চেত বাঁধ। আরও তিনটি বাঁধ হওয়ার কথা ছিল। তার একটি হওয়ার কথা ছিল ঝাড়খণ্ডের বলপাহাড়িতে। এখন সেখানে বাঁধ না করে নিজের খরচে ব্যারাজ করতে চাইছে ঝাড়খণ্ড সরকার। ব্যারাজের দু’প্রান্তে ক্যানেল করে সেচের জল নিয়ে যেতে চায় তারা। আর এটা হলে বাংলার জন্য উঁকি মারছে আশঙ্কার কালো মেঘ। তিলাইয়া বাঁধ থেকে বরাকর নদী হয়ে জল আসে মাইথন বাঁধে। তার মধ্যেই এই ব্যারাজ হবে। সেখানে ঝাড়খণ্ড সরকার যদি পর্যাপ্ত জল মাইথনের বাঁধের উদ্দেশ্যে না ছাড়ে, তখনই বাঁধে জলের অভাব মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। মাইথন থেকে শুধুমাত্র সেচের জল ছাড়া হয় না। বিস্তীর্ণ এলাকার পানীয় জলের সরবরাহও করা হয়। এখন ঝাড়খণ্ডের প্রস্তাবিত ব্যারাজ হলে এসবকিছু স্বাভাবিক থাকবে তো? প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট মহলের।
যদিও ডিভিসি কর্তৃপক্ষর দাবি, পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যেহেতু বিষয়টি দু’টি রাজ্যের মধ্যে রয়েছে, তাই সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনা করা হবে।
শুধু বলপাহাড়ি নয়, ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট বাঁধ নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড সরকার ও ডিভিসিকে নিয়ে দফায় দফায় পর্যালোচনা বৈঠক করছে। তেনুঘাট বাঁধটি নিয়ন্ত্রণ করে ঝাড়খণ্ড সরকার। এই বাঁধ থেকে অনিয়ন্ত্রিত জল ছেড়ে দেওয়ার জেরে পাঞ্চেতে আকস্মিক জলস্তর বেড়ে যায়। তখন পাঞ্চেত থেকে বিপুল জল ছেড়ে দেওয়ার জেরে বাংলার বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হয়ে পড়ে। এখানেই তেনুঘাটের জলধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, বাঁধটি ৮৮২ ফুট পর্যন্ত জল ধরে রাখতে পারে। কিন্তু, বাঁধের জলস্তর নিয়ন্ত্রণ করা হয় ৮৩৯ ফুট থেকে ৮৫২ ফুট পর্যন্তই। অর্থাৎ, এই বৃহৎ বাঁধে মাত্র ১৩ ফুট জলস্তর ওঠানামা করানো হয়। সবপক্ষ মিলে চাইছে আরও বেশি পরিমাণ জল ধরে রাখুক তেনুঘাট। যাতে পাঞ্চেতের উপর চাপ কমে। পাশাপাশি, অন্যান্য বাঁধগুলির মতো তেনুঘাটের জল ছাড়ার নিয়ন্ত্রণও দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাইথনে ডিভিসির প্রজেক্ট হেড সুবীর সাহা বলেন, ‘বলপাহাড়ি ব্যারাজ হলে মাইথনের কী প্রভাব পড়বে. তা জানতে সিমুলেশন স্টাডি করা হচ্ছে। এছাড়া সেচের জন্য আমরা শুরু মাইথন থেকে নয়, পাঞ্চেত থেকেও জল ছাড়ি। কোনো অবস্থায় মাইথনে জলের ঘাটতি হলে পাঞ্চেত থেকে তা পূরণ করার সুযোগ রয়েছে।’