গান্ধীর ছবি সরছে কাজের গ্যারান্টি প্রকল্পের জবকার্ড থেকেও, বিতর্কের আশঙ্কায় নকশা প্রকাশে দেরি? ভরসা অস্থায়ী কার্ডে
বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: মনরেগা (১০০ দিনের কাজ) প্রকল্পের বদলে ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে ভিবি জি রাম জি (১২৫ দিনের কাজ) প্রকল্প চালু করেছে মোদি সরকার। একই সঙ্গে পূর্বতন প্রকল্পের জবকার্ডের বদলে উপভোক্তাদের হাতে গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। কিন্তু প্রকল্প চালু হয়ে যাওয়ার পর দেড় মাস কেটে গেলেও সেই কার্ড কেমন দেখতে হবে, ঠিক করতে পারেনি কেন্দ্র। চূড়ান্ত হয়নি কার্ডের ডিজাইন বা নকশা। ফলে আপাতত ভরসা রাখতে হচ্ছে অস্থায়ী (ইন্টারিম) গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ডে। ১২৫ দিনের কাজ চালু হওয়ার পর নতুন করে নাম নথিভুক্ত হওয়া উপভোক্তাদেরই মূলত এই কার্ড দিচ্ছে রাজ্য। মনরেগা জবকার্ডের প্রথম পাতাতেই থাকত মহাত্মা গান্ধীর ছবিসহ প্রকল্পের লোগো। প্রকল্পের নাম থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম সরিয়ে দেওয়া নিয়ে বিস্তর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল মোদি সরকারকে। এবার কি তাহলে কার্ড থেকেও মহাত্মা গান্ধীর ছবি সরে গিয়ে আসবে প্রধামন্ত্রীর মুখ? তৈরি হবে নয়া বিতর্ক? জেন জি আন্দোলনের আবহে সেই বিতর্ক এড়াতেই কি কার্ডের নকশা প্রকাশ্যে আনতে দেরি করছে কেন্দ্র? রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের অন্দরে এসব প্রশ্নে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে।
সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে মনরেগা প্রকল্প চলাকালীন জবকার্ড হোল্ডারের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫৬ লক্ষ। ১২৫ দিনের কাজ চালু হওয়ার পরই ঝাড়াইবাছাই শুরু হয়। মৃত বা অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার ফলে এ রাজ্যে বাতিল হয় প্রায় ১৯ লক্ষ জবকার্ড। সেই সঙ্গে নয়া প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ পেতে আগ্রহীদের নতুন করে নাম নথিভুক্ত করার কাজ শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত গ্রামবাংলার প্রায় চার লক্ষ মানুষ নাম লিখিয়েছেন। তাঁরা প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপক হিসাবে যোগ্য বলে বিবেচিত হলেও তাঁদের হাতে এখনও পাকাপাকিভাবে গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড তুলে দেওয়া যায়নি। কিন্তু যাঁরা মনরেগা প্রকল্পেই কাজ পেতেন, তাঁদের কাছে আগের জবকার্ড রয়েছে। সেখানেই তাঁদের দৈনন্দিন কাজের হিসাব তুলে দেওয়া হচ্ছে। বাকি যাঁরা, তাঁদের ভরসা অস্থায়ী কার্ড। প্রসঙ্গত, নতুন কার্ড কেমন হবে, তার খসড়াই এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র চূড়ান্ত না করতে পারেনি। কিন্তু মনরেগার জবকার্ডে উপভোক্তার ক্রমিক নম্বর, নাম, একটি পরিবারে কত জন কাজ পেতে পারেন, তাঁদের নাম, ছবি, ঠিকানা ইত্যাদি দেওয়া থাকত। এই জবকার্ড থেকে মহাত্মা বদলে ফেলা হবে।