• মুদি দোকানের মাসকাবারি খরচ চালাতেই নাজেহাল আম জনতা, চিনি, ডাল, ভোজ্য তেলের দাম বাড়ছে লাফিয়ে
    বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাজারে কাঁচা সবজির দাম অনেকদিন থেকেই চড়া। সম্প্রতি এক ধাক্কায় বেড়ে গিয়েছে মুদি দোকানের মাসকাবারি খরচও। চিনি, ভোজ্য তেল, ডাল, আটা, ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু সামগ্রীর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় আম জনতার দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বাজার ঘুরে জানা যাচ্ছে, আটা, ময়দা ছাড়া চিনি, ডাল, ভোজ্য তেল প্রভৃতির দাম গত এক মাসে বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। সবথেকে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে চিনির দর। গত মাসেও খুচরো বাজারে এক কেজি চিনির দাম ৫২-৫৩ টাকা ছিল। তার আগে দাম ছিল আরও কম। সেই চিনির দাম এখন বেড়ে ৬৫-৭০ টাকা ছুঁয়েছে। পাইকারি বাজারেই দাম ৬০-৬২ টাকা। সরকার কোনো বিশেষ ব্যবস্থা না নিলে চিনির দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে ব্যবসায়ী মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিনির জোগান কমে গিয়েছে। পোস্তা বাজার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অরুণ কেডিয়া বলেন, ‘চিনির দাম অনেকটা বেড়েছে। কিছুটা বেড়েছে ভোজ্য তেলের দামও। তবে বাকিগুলির ক্ষেত্রে এরকম দামের ওঠা-নামা হয়েই থাকে।’ তবে এসব পণ্যের  মূল্যবৃদ্ধির জন্য 

    বাজারে চাহিদা কমছে। চিনির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে মিষ্টিসহ বিভিন্ন তৈরি খাবারের উপর। অনেক জায়গায় মিষ্টির দাম বাড়িয়ে বা সাইজ ছোটো করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা। খোলা সর্ষের তেলের দাম এক মাসেই কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। প্যাকেটজাত সর্ষের তেল ও সাদা ভোজ্য 

    তেলের মূল্যবৃদ্ধির হার আরও বেশি। ইরান যুদ্ধের জন্য আমদানিতে সমস্যা হওয়ায় সাদা তেলের দাম বেশি  চড়েছে বলে খবর। ডালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫-১০ টাকা।

    চিনির দাম কেন এতটা বাড়ল, ব্যবসায়ী মহল তার আরও কিছু কারণ তুলে ধরছে। আখ থেকে ইথানল উৎপাদনে  বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া এর একটা কারণ বলে মনে করছে তারা। তাই বাজারে চিনির জোগান কমেছে। গত বছর আখ উৎপাদন দেশে কম হয়েছিল। তারপরও অক্টোবর মাসে নতুন মরশুমের শুরুতে বিদেশে ১০ লক্ষ টন চিনি রপ্তানি করা হয়। এখন যে আখ চাষ হচ্ছে, তা থেকে নতুন চিনি উৎপাদন হতে অক্টোবর মাস পার হয়ে যাবে। এই অবস্থায় বিশেষ করে উৎসবের মরশুমে চিনির দাম যে কোথায় পৌঁছাবে, তা নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ী মহল। তাদের কাছে খবর এসেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদেশ থেকে আমদানি করা চিনির উপর আমদানি কর তুলে দেওয়ার ভাবনাচিন্তা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। একমাত্র সেক্ষেত্রে চিনির দাম কমতে পারে। যেসব গরিব মানুষের অন্ত্যোদয় রেশন কার্ড ছিল, তারা মাসে পরিবার পিছু ১ কেজি করে  ১৩ টাকা ৫০ পয়সা কেজি দরে চিনি পেতেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার গত এপ্রিল থেকে রেশনে চিনি দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, ‘গরিব মানুষের স্বার্থে  চিনি দেওয়া ফের চালু করার অনুরোধ আমরা কেন্দ্রের কাছে রেখেছি। তবে তারা আবেদন কানে তোলেনি।’ 

    খোলাবাজারে চালের দাম কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। রেশনের বিনা পয়সার চালের একটা বড়ো অংশ খোলাবাজারে চলে আসা এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আটা-ময়দার দাম গত এক মাসে কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। তবে নামী ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত আটার দাম অনেকটা বাড়তে পারে বলে খবর।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)