• ‘তোলাবাজ’ ২৪ বিধায়ক শাস্তির মুখে! মোদি-শাহের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
    বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকার গঠনের ১০৫ দিন। আর এরই মধ্যে ২০৮ বিধায়কের মধ্যে দু’ডজনের মাথায় ঝুলে গেল শাস্তির খাঁড়া। অভিযোগ? তোলাবাজি-ভীতি প্রদর্শন-প্রশাসনিক কর্তাদের চমকানো। এছাড়া আরও গুচ্ছ নালিশ। সাংগঠনিক পরিসরে অভিযুক্ত বিধায়কদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিজেপি। সূত্রের দাবি, এই ২৪ জন এমএলএ’র ‘কুকীর্তি’র যাবতীয় তথ্যসমৃদ্ধ পৃথক ফাইল তৈরি করে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। রাজ্য পার্টি থেকে অভিযুক্ত বিধায়কদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই মুহূর্তে পার্টির সেইসব ‘মাতব্বর’ জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সিদ্ধান্তের উপর। এমএলএ’দের বিবিধ অপরাধমূলক ঘটনার ‘ডিজিটাল’ প্রমাণ ফাইলবন্দি করে শমীক ভট্টাচার্য তুলে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের হাতে। দলের সর্বভারতীয় এই সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে তা পৌঁছে গিয়েছে মোদি-শাহের অফিসে। সবকিছু ঠিক থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই দলীয় অনুশাসন ভাঙার অপরাধে ওই বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সেটা হবে ভারতের সংসদীয় ইতিহাসের বিরলতম ঘটনা।

    এ প্রসঙ্গে দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘বিজেপি দলীয় সংবিধান মেনে চলে। অভিযুক্ত বিধায়কদের বিরুদ্ধে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য পার্টির হাতে রয়েছে। কিন্তু তাও সংশ্লিষ্টদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে প্রথমে শো-কজ করা হবে। সদুত্তর না মিললে পরবর্তীতে সাসপেন্ড করা হতে পারে পদ্ম প্রতীকে জয়ী মাত্র তিনমাস আগের বিধায়কদের। এক্ষেত্রে দলের সঙ্গে তাঁদের সমস্ত রকমের সম্পর্ক ত্যাগ করা হবে। তাঁদের দলের কিংবা প্রশাসনের কোনো কাজে লাগানো হবে না।’ ওই নেতার কথায়, বিধানসভা ভোটে জয়ের পর বহু বিধায়ক দলীয় সংগঠনের থেকে নিজেদের বড়ো মনে করতে শুরু করেছেন। তাঁরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের থেকে তোলাবাজি-কাটমানির বখরা নিচ্ছেন। এমনকি বহু বিধায়ক জেলাশাসক-পুলিশ সুপার-এসডিও-বিডিওদের ধমকাচ্ছেন। নিজের ক্ষমতা জাহির করে পুলিশ-প্রশাসনকে দিয়ে অন্যায় কাজ করানোর খেলায় মেতেছেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে, তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে ‘সেটিং’ করে এলাকার পুরানো বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনা সামনে এসেছে। দল ও সরকারের ভাবমূর্তি অটুট রাখতে দ্রুত অভিযুক্ত বিধায়কদের সঙ্গে দলের সংস্রব ত্যাগ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

    তবে মুখে বলা কথার সঙ্গে বাস্তবের ফারাক অনেকটা। দল থেকে বহিষ্কার করলেও অভিযুক্তদের বিধায়ক পদ কাড়ার ক্ষমতা পার্টির নেই। সেক্ষেত্রে ‘দিকভ্রষ্ট’ এমএলএদের পালটা প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়েও চর্চা চলেছে সংগঠনের অন্দরে। রাজ্যের এক মন্ত্রীর কথায়, ‘বিধানসভায় আমাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক বিধায়ক রয়েছে। তার মধ্যে গুটিকয়েক সদস্যকে এখনই ‘কড়া দাওয়াই’ না দিলে আগামীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।’ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ধরনের ঘটনায় বিরক্ত। বিতর্কিত বিধায়কদের ঘরোয়াভাবে সতর্ক করা হলেও অনেকে তা কানে তোলেননি। তাই অভিযুক্ত বিধায়কদের বিরুদ্ধে শাস্তির পক্ষেই রয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। কেননা, দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। এই অল্প সময়ে তার চরম বিচ্যুতির দায় পড়ছে বিজেপির পরিষদীয় নেতার কাঁধে। সব মিলিয়ে আক্ষরিক অর্থেই ফস্কা গেরোয় পড়ে গিয়েছে বঙ্গ বিজেপি।      
  • Link to this news (বর্তমান)