চিনির চড়া দাম, দিলীপের কাছে সরব বাংলার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা, উঠল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও
বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিনির দাম থেকে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা, একাধিক ইস্যুতে এবার সরব হলেন রাজ্যের মিষ্টান্ন বিক্রেতারা। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে জ্বালানির দরে সংকট মারাত্মক বেড়েছে। তারই সঙ্গে অমিল পর্যাপ্ত দুধও। এই অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই দায়। প্রশাসনের আশ্বাস, সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
শুক্রবার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের সংগঠন মিষ্টি উদ্যোগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সেখানেই নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি বালিগঞ্জে একটি নামী মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তাকে নিগ্রহের ব্যাপারে শাসক দলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, সেই প্রসঙ্গও ওঠে এদিন। উঠেছে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সংগত দাবি। বিষয়টি নিয়ে সরব হন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির কর্তাও।
পাশাপাশি, এদিন দিলীপবাবুর কাছে বেশ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেন মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, মিষ্টি উৎপাদনে দুধ প্রধান কাঁচামাল হলেও তার পর্যাপ্ত জোগান সবসময় পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা দিলীপবাবুর কাছে আরজি জানান, রাজ্যের ধুঁকতে থাকা বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ডায়েরিগুলোকে যেন চাঙা করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় টেস্টিং ল্যাবরেটরি করার অনুরোধ করেন তাঁরা। আরও বলেন, চিনির দাম যেভাবে লাগাম ছাড়া হয়ে যাচ্ছে, তাতে মিষ্টান্ন শিল্প ক্রমশ পঙ্গু হওয়ার পথে। তাঁদের আরজি, সরকার তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে চিনির দামের এই ঊর্ধ্বগতি রুখতে এখনই চেষ্টা করুক। এদিন মন্ত্রীর কাছে মিষ্টান্ন উৎপাদকরা অভিযোগ করেন, তাঁদের থেকে সরকার এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং ট্যাক্স আদায় করছে। অথচ মিষ্টি তৈরির ক্ষেত্রে কিছু কৃষিজাত পণ্য শুধুমাত্র কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। যেমন চানাচুর বা মোয়া। কিন্তু কোনোভাবেই মিষ্টান্ন বিক্রেতারা কৃষিজাত পণ্যের ব্যবসায়ী নন। তা সত্ত্বেও তাঁদের উপর কেন এই কর আরোপ করা হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। দিলীপবাবু বলেন, আলাদা করে প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে নিরাপত্তা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার, আশা জুগিয়েছেন দিলীপবাবু। পাশাপাশি তিনি বলেন, চিনির দাম কেন বাড়ছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরও বলেন, উপযুক্ত মানের দুধের জোগান বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন ডেয়ারি খুলতেও উদ্যোগী হবে রাজ্য সরকার। দুর্নীতির কারণে ধুঁকতে থাকা ডেয়ারিগুলি চাঙা করা হবে। পাশাপাশি তাঁর আরজি, সরকারের হাতে যে জমি বা শেড অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে, সেগুলিকে মিষ্টি তৈরির কাজে ব্যবহার করুন ব্যবসায়ীরা।