এই সময়: রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিতে এবং অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণকে গতিশীল করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন-বান্ধব নীতি প্রণয়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের হাত ধরে বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব জোয়ার শুরু হয়েছে। যে যাত্রায় শরিক হয়ে কলকাতা-ভিত্তিক চ্যাটার্জি রিসোর্স ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেড রাজ্যে ৬টি প্রিমিয়াম ও ৫ তারা হোটেল গড়ার কথা ঘোষণা করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আইটিসি গোষ্ঠীর ‘ফরচুন পার্ক হোটেলস’-এর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে এই প্রথম পাঁচতারা মানের আন্তর্জাতিক মানের রিসর্ট গড়ে তোলা হবে। টাকি ছাড়াও এই গোষ্ঠীর ভাবনায় রয়েছে রাজ্যের আরও পাঁচটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে স্টার হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা, যা পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ হসপিট্যালিটি ও পর্যটন ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা সম্রাট চৌধুরীর কথায়, ‘কলকাতার বাইরে টিয়ার ২ এবং টিয়ার ৩ শহরগুলিতে এখন প্রিমিয়াম আতিথেয়তার বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আমাদের এই ছ’টি হোটেল প্রকল্প শুধু অতিথিদের অভিজ্ঞতায় নতুন সর্বজনীন মান তৈরি করবে না, বরং পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন অর্থনীতিতে এক স্থায়ী ইতিবাচক ছাপ রেখে যাবে। আধুনিক পরিবেশবান্ধব পর্যটন কাঠামোর মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখেই বিশ্বমানের আতিথেয়তা প্রদান করা হবে হোটেলগুলিতে।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, এই ধরনের মেগা হসপিট্যালিটি প্রকল্প শুধু যে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে তাই নয়, একই সঙ্গে হস্তশিল্প, লোকসংস্কৃতি ও নৌ-পরিবহণের মতো স্থানীয় সহযোগী ব্যবসাগুলিকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে।
এ বিষয়ে টার্ম শিট স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চ্যাটার্জি রিসোর্স ডেভেলপারস-এর পরিচালক শ্রী অসিত কুমার চ্যাটার্জি বলেন, ‘বর্তমান রাজ্য প্রশাসনের বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ ও পর্যটন পরিকাঠামোর বিকাশ আমাদের মতো সংস্থাগুলোকে রাজ্যের নানা প্রান্তে পৌঁছনোর প্রেরণা জুগিয়েছে। দায়িত্বশীল এবং টেকসই বিলাসিতাকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক মানের স্টার হোটেলের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চলেছি। টাকির ইছামতী রিভারফ্রন্ট প্রকল্পের জন্য আইটিসি-র ফরচুন পার্ক হোটেলস আমাদের সবথেকে নির্ভরযোগ্য সহযোগী।’