• দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চিনি মজুতের সীমা বেঁধে দিল কেন্দ্র
    এই সময় | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: উৎসবের মরশুমের আগে দেশে চিনির দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র। মজুতদারি ও কৃত্রিম সঙ্কট রুখতে ব্যবসায়ীদের চিনি মজুতের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ১০ লক্ষ টন শুল্ক–মুক্ত অপরিশোধিত চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে ১৫ অক্টোবর থেকে চিনি কলগুলিকে নতুন মরশুমে আখ মাড়াই শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় খাদ্য ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের হিসেবে, দেশের বাজারে গত ২০ জুলাই এক কেজি চিনির দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা। ২০ অগস্ট তা বেড়ে হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা। অর্থাৎ, এক মাসে কেজিতে দাম বেড়েছে ৭.৫২ টাকা। কেন্দ্রে এই হিসেব দিলেও বাজারে চিনি বিকোচ্ছে অবশ্য ৬৬ থেকে ৬৮ টাকা কিলো দরে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই মূল্যবৃদ্ধির জন্যে ইথানল তৈরিতে চিনির ব্যবহারকে দায়ী করা ঠিক নয়। তথ্য বলছে, ইথানল উৎপাদনে চিনির ব্যবহার বরং কমেছে। ২০২২-২৩–এ মোট চিনির প্রায় ১২ শতাংশ ইথানলে ব্যবহৃত হলেও ২০২৫-২৬–এ তা কমে হয়েছে ৯ শতাংশ। দেশে উৎপাদিত ইথানলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এখন শস্য, বিশেষত ভুট্টা থেকে তৈরি হচ্ছে।

    তবে চলতি মরশুমে দেশে চিনির উৎপাদন প্রাথমিক হিসেবের তুলনায় কম হয়েছে। আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলির অনুমান ছিল, এ বার ৩৪৩ লক্ষ টন চিনি উৎপাদন হবে। হয়েছে ৩০৬ লক্ষ টন। আখে সংক্রমণ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জল জমে যাওয়া উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্র। যদিও সরকারের দাবি, অক্টোবরে নতুন মরশুম শুরু হওয়া পর্যন্ত দেশের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ১ অগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চিনির ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ ৪০০ টন মজুতের ঊর্ধ্বসীমা ধার্য করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে চিনি ব্যবহারকারী সংস্থাগুলি ১৫ দিনের প্রয়োজনের বেশি চিনি মজুত করতে পারবে না। মজুতদারি ঠেকাতে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রতিনিধিদল চিনিকলে গিয়ে মজুতের বাস্তব পরিমাণ যাচাই করবে।

  • Link to this news (এই সময়)