কেন দাম বাড়ছে চিনির? দাম কি আরও বাড়বে? আখ থেকে শুরু করে ইথানল, ব্যাখ্যা দিল কেন্দ্র
News18 বাংলা | ২২ আগস্ট ২০২৬
নয়াদিল্লি: গত একমাসে ভারতে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে চিনির দাম৷ যা নিয়ে ইতিমধ্যেই মধ্যবিত্তদের মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে আলোচনা৷ তবে কি চিনির দাম আরও বাড়বে? কেনই বা হঠাৎ বাড়ছে চিনির দাম? এরসঙ্গে ইথানলের কি কোনও সম্পর্ক আছে? এই সমস্ত প্রশ্নের কৌতুহল নিরসন করতে বিস্তারিত তথ্য জানাল কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক৷ প্রসঙ্গত, গত একমাসে প্রতি কেজি চিনির দাম প্রায় ৭ টাকা বেড়েছে৷
কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই ২০২৬-এ প্রতি কেজি চিনির গড় দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা। ২০ অগাস্ট তা বেড়ে হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসে প্রতি কেজি চিনির দাম ৭.৫২ টাকা বা প্রায় ১৫.৬ শতাংশ বেড়েছে।
চিনির দাম আরও বাড়তে চলেছে
চিনির চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে এবং উৎসবের মরসুমে এর ব্যবহারও বৃদ্ধি পায়। তাই, যদি আখের সরবরাহ কম থাকে এবং চিনির উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম হয়, তবে দাম বাড়াটা স্বাভাবিক। উৎসবের চাহিদার কারণে আগামী দিনগুলিতে চিনির দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চিনির দাম সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে বেড়েছে। ২০ জুলাই ২০২৬-এ প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা, যা ২০ আগস্ট বেড়ে হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে কেন্দ্রীয় সরকার। উপভোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত চিনি সরবরাহ এবং স্থিতিশীল দাম নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।
সম্প্রতি চিনির দাম বৃদ্ধির জন্য ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহারকে দায়ী করা হয়েছে৷ কিন্তু, কেন্দ্রের বক্তব্য, তথ্যটি ঠিক নয়। বরং ইথানল উৎপাদনে ব্যবহারে আখের পরিমাণ ২০২২-২৩ সালে প্রায় ১২ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ সালে প্রায় ৯ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি, দেশে উৎপাদিত ইথানলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এখন শস্য, বিশেষ করে ভুট্টা থেকে তৈরি হয়।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে চিনির মূল্যবৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রত্যাশার তুলনায় কম দেশীয় উৎপাদন, উৎসবের মরসুমের আগে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার কারণে আখের ক্ষতি, বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহ কমে যাওয়া এবং শিল্পের কিছু অংশের মজুতদারি ও কালোবাজারি বা অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা।
প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় কম চিনি উৎপাদন
চলতি মরসুমে দেশে প্রায় ৩০৬ লক্ষ মেট্রিক টন (LMT) চিনি উৎপাদন হতে পারে। অথচ আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলির প্রাথমিক অনুমান ছিল প্রায় ৩৪৩ LMT। আখের রেড রট এবং টপ বোরার রোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জল জমে যাওয়ায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে উৎপাদন প্রত্যাশার তুলনায় কম হলেও, অক্টোবর মাসে নতুন করে আখ মাড়াইয়ের মরশুম শুরু হওয়া পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চিনি মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
বিশ্ববাজারেও বাড়ছে চিনির দাম
চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ার সমস্যা শুধু ভারতের নয়, সারা পৃথিবীতেই এমন ট্রেন্ড এখন। ২০২৬-২৭ মরসুমে বিশ্বে চিনির ঘাটতি প্রায় ৩৩ LMT হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগও বিশ্ববাজারের পরিস্থিতিকে আরও প্রভাবিত করেছে।
এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ৩০ জুন ২০২৬-এ প্রতি টন চিনির দাম ছিল ৪৭৪ ডলার। ২০ আগস্ট তা বেড়ে হয়েছে ৫৫২ ডলার। অর্থাৎ দু’মাসেরও কম সময়ে দাম বেড়েছে ১৬ শতাংশের বেশি।
মজুতদারি রুখতে কেন্দ্রের একাধিক পদক্ষেপ
চিনি কল এবং ব্যবসায়ীদের একাংশের মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণে দাম বাড়ছে বলে মনে করছে সরকার। তাই একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
১ অগাস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দেশজুড়ে চিনি ব্যবসায়ীদের জন্য ৪০০ টন মজুতসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর থেকে বড় ক্রেতারা ১৫ দিনের ব্যবহারের বেশি চিনি মজুত রাখতে পারবেন না।
মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের যৌথ দল চিনি কলগুলিতে গিয়ে মজুতের বাস্তব যাচাই করবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বাড়াতে ১০ LMT অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য এবং চিনি কলগুলিকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে আখ মাড়াই শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অক্টোবরে সাধারণত ৩-৪ LMT চিনি উৎপাদনের পরিবর্তে ১০ LMT-র বেশি উৎপাদন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।