এই সময়, তারাপীঠ: কয়েক দিন আগে ‘বিদেশিনী’ হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে ন’জনের মৃত্যুর ঘটনায় শিরোনামে চলে আসে তারাপীঠ। এমন পরিস্থিতিতে কৌশিকী অমাবস্যায় উৎসবের প্রস্তুতি চলছে সেখানে। এই সময়ে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। তাই হোটেল–লজের নিরাপত্তা নিয়ে আগাম সতর্ক প্রশাসন। হোটেলগুলির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে অডিট কমিটি। হোটেল–লজগুলির জন্য নয় দফা নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন। তাদের নথিপত্র এবং ফায়ার সেফটির নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রুটি থাকলে তা কৌশিকী অমাবস্যার আগেই সমাধান করে নিতে বলা হয়েছে তাদের।
ইতিমধ্যেই বিশেষ দল নিয়ে তারাপীঠের হোটলেগুলিতে পরিদর্শনে নামেন রামপুরহাট মহকুমাশাসক, এসডিপিও, দমকল বিভাগের আধিকারিক ও তারাপীঠ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক-সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তারা। হোটেলেগুলিতে গিয়ে তাঁরা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখেন। আগেই নথিপত্র ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি থাকায় ১৫টি হোটেলে নোটিস দিয়ে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আগুন লাগলে কী করণীয় এবং বেরোনো বা পালানোর পথ কোথায়, সেগুলি আগেভাগে অতিথিদের জানিয়ে রাখতে হবে হোটেল কর্তৃপক্ষকে। তাই এমার্জেন্সি এক্সিটে সাইনবোর্ড টাঙাতে হবে। বিপদের সময়ে সবাইকে বের করে নিয়ে আসার জন্য রাখতে হবে প্রশিক্ষিত কর্মী। এমার্জেন্সি এক্সিটে কোনও ভাবেই সিলিন্ডার, বোতল বা অন্য দাহ্যবস্তু রাখা যাবে না। এমার্জেন্সি এক্সিটের দরজায় কাঠের পরিবর্তে গ্রিল গেট করতে হবে। সেখানে তালা দিয়ে রাখা যাবে না। ছাদের জন্য গ্রিল গেট রাখতে হবে। সেটিও খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হোটেল কর্মীদের ফোনে পুলিশ ও দমকলের জরুরি নম্বর সেভ করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হোটেলের নম্বরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ল্যান্ড মিউটেশন সার্কিট, টিআরডিএ স্থানীয় পঞ্চায়েতের এনওসি সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্স, ইলেকট্রনিক ফিটিং সার্টিফিকেট, ফুড সেফটি, ফায়ার সার্ভিস সার্টিফিকেট, পলিউশন সার্টিফিকেট, জিএসটি রেজিস্ট্রেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তৈরি রাখতে বলা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রুখতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশিকা মেনে চলার বার্তা দিয়েছেন রামপুরহাটের মহকুমাশাসক রাঠৌর অশ্বিনবাবু সিং। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা যেমন পরিদর্শনে যাচ্ছি, তেমনই অডিট টিমও নজরদারি চালাচ্ছে। কৌশিকী অমাবস্যার আগে সমস্ত হোটেলকে তাদের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ শুধু তারাপীঠই নয়, সিউড়িতে হোটেল লজের ব্যবস্থাপনার দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায় সিউড়ির সমস্ত হোটেল ও লজ মালিককে নিয়ে বৈঠক করেন সিউড়ি থানায়। মূলত তাদের ফায়ার লাইসেন্স, সরাই লাইসেন্স, ইলেকট্রিক্যাল ওয়ারিং সমস্ত কিছু ঠিক আছে কি না, সেই সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ছাড়াও লাইসেন্স বা কাগজপত্র কোনও ত্রুটি থাকলে সেগুলিকে যত দ্রুত শুধরে নেওয়ারও পরামর্শ দেন।