বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম
রাস্তায় বেরোলেই যানজটে অতিষ্ঠ হতে হয় মানুষকে। সময়ে বেরিয়েও গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হওয়াটা রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অরণ্যশহরের বুক চিরে চলে গিয়েছে পাঁচ নম্বর ঝাড়গাম-বাঁকুড়া রাজ্য সড়ক। ঝাড়গ্রাম জেলা হওয়ার পরে ত্রমেই বেড়েছে জনসংখ্যা। গড়ে উঠেছে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার অফিস, শপিংমল, নতুন বাজার। কিন্তু যান চলাচল মসৃণ করতে পুলিশ-প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে নিত্য যানজটে হাঁসফাঁস অবস্থা শহরের। রাজ্যে পালাবদলের পরে এ বার যানজটমুক্ত শহর গড়তে উদ্যোগী হয়েছে নতুন সরকার। তৈরি হতে চলেছে শহরকে ঘিরে 'রিং রোড' (যানজট এড়াতে বাইপাস রাস্তা)। রাস্তা হয়ে কাশিয়ার বাইপাস দিয়ে শহরের জামদার সার্কাস মাঠ মোড় পর্যন্ত এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঝাড়গ্রামের দক্ষিণে রয়েছে কলকাতা-মুম্বই ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং উত্তরে রয়েছে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, আসানসোল দুর্গাপুরের মতো শিল্পনগরী। জাতীয় সড়ক থেকে ভারী গাড়ি ঝাড়গ্রাম শহর হয়ে আসানসোল, দুর্গাপুরে যায়। অনেক সময়ে ঝাড়গ্রাম শহরে ঢোকার মুখে সারদাপীঠ মোড় থেকে জামবনি হয়ে ঘুরপথে শিলদায় রাজ্য সড়কে উঠতে হয়।
অন্য দিকে, জেলায় নদীগুলিতে বালি খাদান থাকায় ট্রাক কংসাবতী নদী থেকে বালি বোঝাই করে ঝাড়গ্রাম শহর দিয়ে জাতীয় সড়কের দিকে চলে যায়। ফলে যানজট তৈরি হয় শহরে। নো-এন্ট্রি থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে পণ্যবোঝাই ট্রাক। স্কুলের সময়ে তা বন্ধ থাকলেও বাকি সময়ে চলাচল করে। ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা শ্যামাপদ পাল বলেন, 'রিং রোড হলে যানজট থেকে মুক্তি পাব।'
বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, 'ভারী যান চলাচলের কারণে শহরে যানজট হয়। মানুষ হয়রান হচ্ছে। এর থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিং রোড তৈরির আবেদন জানাই। তিনি অনুমতি দিয়েছেন। খুব তাড়াতাড়ি রিং রোড তৈরি হবে।'