• প্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে প্রতিবাদের গ্রাফিতিতে না, মোছার আবেদন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, বর্ধমান: বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনের পরে প্রশাসনিক ভবনে ঢুকে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। গাড়ি থেকে নেমেই প্রশাসনিক ভবনের দেওয়ালে আরজি কর আন্দোলনের নানা ধরনের লেখা, পোস্টার ও ছবি দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। উপস্থিত কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে দেওয়াল দেখিয়ে মন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এটা কি মামার বাড়ি নাকি? এটা কি পোস্টার ওয়াল? এ ভাবে কেন লেখা থাকবে?’ সঙ্গে সঙ্গেই তিনি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে এগুলো যেন মুছে দেওয়া হয়। সাদা রং করে দেবেন।’ পরে অবশ্য সাত দিন সময় দিয়েছেন তিনি।

    এই ঘটনা নিয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র বিভাংশু রায় বলেন, ‘ওই দেওয়ালে প্রথমে আরজি কর আন্দোলনের সময়ে লেখা হয়েছিল। নতুন সরকার আসার পরে এটা মোছাও হয়েছিল। কিন্তু কেন মোছা হলো সে বিষয়ে আমাদের প্রিন্সিপ্যাল ম্যাম আমাদের কোনও উত্তর দিতে পারেনি। পরে বামপন্থী, অতিবামপন্থী ছাত্ররা বেশ কিছু স্লোগান লিখেছেন। এখন কোনটা দেখে স্যরের খারাপ লেগেছে বলতে পারব না। তবে স্থানীয় একটা দেওয়াল বা মোরাল অভয়া দির নামে করে দিয়ে দেওয়াল মুছে দেওয়া হলে আমাদেরও আপত্তি নেই।’

    এ দিন পরে অনাময় হাসপাতালে যাওয়ার সময়ে দেওয়াল লিখন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ‘দেওয়াল লিখন নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নয়, সিনিয়র চিকিৎসক হিসেবে, কারও কাছে বাবা, জেঠু বা বড় দাদার মতো করে আবেদন করেছি যে নিজের বাড়িতে কি এই প্রতিবাদী লেখনটা হয়? যারা প্রতিবাদ করেছেন তাঁরা বেডরুমে প্রতিবাদ করেন? প্রতিবাদ করুন। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠান এমবিবিএস, জিএনএমএ, বিএসসি নার্সিং-এ দীক্ষা দিচ্ছে, যে ইট- কাঠ- পাথরের বিল্ডিং থেকে সারাজীবনের মিলবে, ঘরে উনুন জ্বলবে, সেই উনুনের উপরে যেন কেউ গ্রাফিটি না করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাত দিন সময় দিয়েছি মুছে দেওয়ার জন্য। হাত জোড় করে নিবেদন করেছি। আমি ওদের প্রতিবাদ জানানোর জন্য আলাদা লেখনির জায়গা করে দেবো। স্টিল ফ্রেমের। যা খুশি লিখতে পারে সেখানে।’

  • Link to this news (এই সময়)