• পহেলগাম কাণ্ডে হাফিজ়কে সমন পাঠাবে ভারত, হাজিরা না দিলে শুরু হবে বিচারপ্রক্রিয়া: রিপোর্ট
    এই সময় | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • পহেলগাম কাণ্ডে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাত হাফিজ় সইদকে শেষবারের মতো সমন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের তদন্তকারী সংস্থা। সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনটাই দাবি করা হয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮-এর একটি প্রতিবেদনে।

    জম্মুর এনআইএ আদালত আগেই হাফিজ়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। পাকিস্তান অবশ্য দাবি করে আসছে, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের অভিযোগে হাফিজ় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে পাকিস্তানে জেলবন্দি। যদিও ভারতের দাবি, ইসলামাবাদ হাফিজ় বাঁচাতে অন্য রকম ভাবে নিরাপত্তা দিচ্ছে।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশ মন্ত্রকের সাহায্য নিয়ে কূটনৈতিক মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের লাহোরে সইদের ঠিকানায় সমন পাঠানো হবে। ভারতের উদ্দেশ্য, হাফিজ় ভারতের আদালতে হাজির হওয়ার শেষ সুযোগ দেওয়া। হাফিজ়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ যাতে আইন মেনেই হয়, তা নিশ্চিত করতেই সমন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নয়াদিল্লি চাইছে, বিচারের সমস্ত প্রক্রিয়া খাতায়কলমে নথিবদ্ধ রাখতে। পাকিস্তান যদি সইদকে সমন পাঠানোর ব্যাপারে সাহায্য না করে বা সইদ আদালতে হাজিরা না দেয়, ভারত আন্তর্জাতিক আদালতে জানাতে পারবে যে, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পুরো সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

    সরকারি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, হাফিজ় সমনে সাড়া না দিলে তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচারপতি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে দেশের আদালতে। এই প্রক্রিয়াকে বলে ‘ইন অ্যাবসেনশিয়া ট্রায়াল’ বলে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত সশরীরে আদালতে হাজির না থাকলেও বিচারপ্রক্রিয়া চলে। সেই ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের তরফে আইনজীবী নিয়োগেরও সংস্থান রয়েছে। যাতে বিচারপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ভাবে এবং আইন মেনেই হয়। বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হন, সাজা ঘোষণা করে রাখা হয়। পরে যখনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে, সেই সাজা কার্যকর করা হবে। নতুন করে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

    প্রসঙ্গত, ১৮ বছর আগে, ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনাতেও ‘মূল চক্রী’ হাফিজ়-সহ ৬ জনের অনুপস্থিতিতেই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার কথা ভাবনাচিন্তা করছে ভারত।

  • Link to this news (এই সময়)