মহিলা শিক্ষাকর্মীকে মারধর-শ্লীলতাহানি পড়ুয়াদের, ধুন্ধুমার পরিস্থিতি মালদহ স্কুলে
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২২ আগস্ট ২০২৬
ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে মালদহের স্কুলে। স্কুলের শিক্ষকদের বসার ঘরে ঢুকে এক মহিলা শিক্ষাকর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এমনকী মারধর করার সময় তাঁর শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল একদল ছাত্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে তুমুল আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে মালদহের বামগোলা থানার অন্তর্গত জগদলা হাইস্কুলে। হাতাহাতি থেকে শুরু করে রীতিমতো চুলোচুলি এবং শ্লীলতাহানির দৃশ্য ইতিমধ্যেই আগে কখনও দেখেনি অন্যান্য পড়ুয়ারা। গোটা ঘটনার সঙ্গে ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকদের ইন্ধন রয়েছে বলেও দাবি করেছেন আক্রান্ত মহিলা শিক্ষাকর্মী। যদিও আক্রান্ত মহিলার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের পাল্টা অভিযোগ তুলেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। মালদহের বামগোলায় জগদলা হাইস্কুলের ঘটনা এখন গড়িয়েছে থানায়।
আর এই মারপিটের ঘটনা এবং শ্লীলতাহানির দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। (যদিও সেই ভিডিও’র সত্যতা যাচাই করেনি ‘দৈনিক স্টেটসম্যান বাংলা ডিজিটাল’)। আক্রান্ত ওই মহিলা শিক্ষাকর্মীর দাবি, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক (টিআইসি) এবং অন্য সহ-শিক্ষকদের উস্কানি ও প্ররোচনাতেই তাঁর উপর হামলা চালিয়েছে ছাত্ররা। এই ঘটনার জেরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন এক ছাত্রের স্কুল সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে গোলমালের সূত্রপাত। প্রাক্তন ছাত্রের এখনকার সংশোধিত নাম অনুযায়ী সার্টিফিকেট দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু ওই মহিলা শিক্ষাকর্মী জানান, স্কুলের নথিতে যে নাম রয়েছে ওই অনুযায়ী সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।
দেড় বছর আগে জগদলা হাইস্কুলে শিক্ষাকর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন ওই মহিলা। এক প্রাক্তন ছাত্রকে স্কুল ছাড়ার শংসাপত্র (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দেওয়াকে কেন্দ্র করে বচসা চরমে ওঠে। আর তখনই প্রাক্তন ছাত্রের পক্ষ নিয়ে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা স্টাফ রুমে ঢুকে মহিলা শিক্ষাকর্মীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। স্কুল চলাকালীন এভাবে দু’পক্ষের মারামারির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে আত্মরক্ষার্থে এবং পরিস্থিতির চাপে পড়ে আক্রান্ত মহিলাও পাল্টা ওই পড়ুয়াদের মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও আক্রান্ত মহিলা শিক্ষাকর্মীকে চিকিৎসার জন্য বামনগোলার মুদিপুকুর গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মহিলা শিক্ষাকর্মীকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে এসে তাঁর চিকিৎসা চলে।
তাছাড়া ওই মহিলা শিক্ষাকর্মীর অভিযোগ, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক (টিআইসি) অমিত হালদারের উস্কানি এবং ইন্ধনেই ছাত্ররা তাঁকে মারধর, শ্লীলতাহানির সাহস পেয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মহিলা বামনগোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আক্রান্ত মহিলা শিক্ষাকর্মী সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেন, ‘আগেও টিআইসি আমাকে দিয়ে জোর করে অনৈতিক কাজ করানোর চেষ্টা করেছেন। আমার গায়ে হাত তুলেছেন। ছাত্রছাত্রীদের দিয়েও আমাকে মারধর করিয়েছেন। আমাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হোক। স্টাফ রুমে ঢুকে স্যার অথবা ম্যাডামের গায়ে হাত তোলার সাহস ছাত্ররা কোথা থেকে পাচ্ছে? তাদের পিছনে কারও সমর্থন না থাকলে এমন হয়? যদিও স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক (টিআইসি) অমিত হালদার পাল্টা বলেছেন, ‘ওই মহিলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি ১৮ বছর চাকরি করছি। দু’বছর ধরে টিআইসি হয়েছি। দেড় বছর আগে উনি কাজে যোগ দিলেও কোনও কাজ ঠিকমতো করেন না। এখানে এক ছাত্রকে টিসি দেওয়া নিয়ে বচসা হয়েছিল। ওঁকে বলা হয়েছিল, যা আছে লিখে দিতে। উনি লিখবেন না। আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমি কিছু বলতে গেলে আমাকে চড় মারেন। আমি মানসম্মান বজায় রেখে নিজের চেয়ারে বসে পড়ি। বাইরে কী হয়েছে জানি না।’