ওড়িশার হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করে ট্রানজিট রিমান্ডে বঙ্গে নিয়ে আসা হয়েছিল পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। তারপর আদালতে তোলা হয় এবং বিচারক পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। এই থানা থেকে আদালতে এবং আদালত থেকে থানায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে জুটেছিল ডিম থেরাপি। তার সঙ্গে মারধর, গালিগালাজ নিয়েই থানার লকআপে ফিরতে হয়েছিল। লকআপে থাকাকালীন কারও সঙ্গে কথা বলছেন না তিনি। বরং একা থানার লকআপে বিড় বিড় করে কিছু আউড়ে চলেছেন বলে সূত্রের খবর। তবে নিজের মনে কী বকছেন তা উপস্থিত কারারক্ষীরা শুনতে পাচ্ছেন না।
নির্মল ঘোষের লকআপ রয়েছে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার অধীনে। তাতে পুলিশ কর্মীরা দেখতে পাচ্ছেন, নিজের মনে বকে চলেছেন নির্মল ঘোষ। অভয়া কাণ্ডের মামলায় খড়দহ থানার লকআপে বিমর্ষভাবে সময় কাটাচ্ছেন নির্মল ঘোষ। কখনও আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। আবার কখনও লকআপের এক কোণায় বসে বিড় বিড় করছেন। মুখে চোখে প্রচণ্ড ক্ষোভ। তদন্তকারীদের কাছে বেশ কয়েকবার তিনি অনুশোচনা করেছেন। আবার আত্মবিশ্বাসী গলায় বলেছেন, বিরোধী হলে এসব তো মেনে নিতেই হবে। বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের মিথ্যে মামলায় তো ফাঁসানো হয়েই থাকে। নির্মল ঘোষকে কি মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে? উঠছে প্রশ্ন।
আসলে নির্মল ঘোষের কথা সামনে আসার পর এমনই প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় কৌতূহলীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, লকআপের মেঝেতে শুয়ে-বসে সময় কাটাচ্ছেন নির্মলবাবু। যদিও তিনি প্রাক্তন বিধায়ক। তবে তাঁকে একটি পৃথক লকআপে রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ সময় নির্মল ঘোষ মাথা নীচু করে বসে আপন মনে কথা বলছেন। সকালে থানার ক্যান্টিনের লিকার চা এবং নোনতা বিস্কুট খাচ্ছেন। দুপুরে অন্যান্য আসামিদের মতো ভাত, ডাল, সবজি এবং ডিমের ঝোল খাচ্ছেন। রাতে রুটি-তরকারিও পরিমাণ মতোই খাচ্ছেন। ২৪ ঘণ্টা সিসি ক্যামেরার নজরদারির পাশাপাশি লকআপের বাইরেও রয়েছে নিরাপত্তারক্ষী। একের পর এক অভিযোগ ওঠায় তিনি উদ্বিগ্ন ও অনুতপ্ত বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন।
তাছাড়া একদিকে অভয়ার দেহ সৎকার নিয়ে অভিযোগ, অপরদিকে টিটাগড় থানায় মণীশ শুক্লা খুনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তিনি নির্দোষ বলে দাবি করছেন তদন্তকারীদের কাছে। এক পুলিশকর্মী শুনতে পেয়েছেন, নিজে একা লকআপে বসে বিড় বিড় করে বলছেন, ‘এসব অপরাধ আমি করিনি। মিথ্যে অভিযোগ সব। আমার সম্মান গেল।’ বিষয়টি ওই পুলিশকর্মীর কানে এসেছে। এরপরই নির্মল ঘোষ তদন্তকারীদের বলেছেন, ‘আর কত কেস দেবে বলুন তো? যদিও আমরা তো বিরোধী। এখন টার্গেট করে অত্যাচার করবে।’ শনিবার নির্মলবাবুকে আটদিনের পুলিশ হেপাজতের শেষে ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হয়।