চিনি এখন মহার্ঘ। হু হু করে বাড়ছে দাম। নাভিশ্বাস আমজনতার। এই পরিস্থিতিতে অদ্ভুত যুক্তি দিতে দেখা গেল বিহারের মন্ত্রী শ্রাবণ কুমার (Shrawan Kumar)। তাঁর মতে, এখন বেশিরভাগ মানুষেরই ব্লাড সুগার অর্থাৎ মধুমেহ রয়েছে। তাই মিষ্টি অনেকেই খান না। আর সেই কারণেই নাকি চিনির দাম বাড়লে (Sugar Price Hike) তাতে সাধারণ মানুষের জীবনে কোনও প্রভাব পড়বে না।
তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘এমনিতেই মানুষ এখন কম চিনি খাচ্ছে। সবাই তো ডায়াবেটিসে ভুগছে। আজকাল আর কে মিষ্টি খায়? আমার মনে হয় না চিনির দাম বাড়লে খুব একটা প্রভাব পড়বে। তাই চিন্তার কোনও কারণ নেই।” জেডিইউ নেতার এমন আজব যুক্তিতে তাজ্জব নেটিজেনরা।
তাঁকে কটাক্ষ করেছেন নির্দলীয় বিধায়ক পাপ্পু যাদব। তিনি বলেছেন, ‘‘গোবরের উপরে যতই ঘি ঢালা হোক না কেন, তার স্বাদ গোবরের মতোই থেকে যাবে। এমন মন্ত্রীর কাছ থেকে আর কী-ই বা আশা করা যায়? গ্যাস ও টমেটোর দাম বাড়লে স্মৃতি ইরানি-সহ অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা প্রশ্ন তুলতেন, অথচ আজ চিনির দাম বাড়লে তাঁরা ডায়াবেটিসের কথা বলছেন। আসলে সবচেয়ে বড় ডায়াবেটিস হল এই সরকার।”
এদিকে বিহারের আরেক মন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সমর্থন করে অদ্ভুত কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়লে তিনি নাকি খুশি হন। তিনি বলেন, ‘‘চিনির দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। এর কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চিনি উৎপাদনের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা এ বিষয়ে তথ্য চাইব। তবে আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়লে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুশিই হই।”
এদিকে উৎসবের মরশুমে যাতে চিনির দাম হাতের বাইরে না চলে যায়, সেটা নিশ্চিত করতে সরকার মজুদদারি কড়া হাতে রুখতে চাইছে। কেন্দ্রের নয়া নির্দেশ, বড় বড় চিনি ব্যবসায়ী বা মজুতদাররা ১৫ দিনের বেশি চিনি গুদামে আটকে রাখতে পারবেন না। মোদি সরকারের নয়া নির্দেশিকা বলছে, যে সব ব্যবসায়ীরা মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি বেচাকেনা করেন, তাঁদের প্রতি ১৫ দিনের মধ্যে নিজেদের গুদামে মজুত সব চিনি বাজারে ছাড়তে হবে।