আগস্টে হচ্ছে না বাণিজ্য নীতি, কেন লাগছে বাড়তি সময়, কারণ জানালেন অর্থমন্ত্রী স্বপন
প্রতিদিন | ২২ আগস্ট ২০২৬
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বছর বছর বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তা সত্ত্বেও লাভ হয়নি কিছুই। রাজ্যে শিল্প খরা চলছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজ্য সরকারের লক্ষ্য বাংলাকে শিল্পবান্ধব করে তোলা। তাই ঠিক করা হয়েছিল মাসখানেকের মধ্যে বাণিজ্য নীতি স্থির করা হবে। তবে আগস্টে তা আর সম্ভব নয়। সেপ্টেম্বরের মধ্যে তৈরি করা হবে বাণিজ্য নীতি। শনিবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে ওয়েস্ট বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিলের বৈঠকে একথা জানান অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)।
বাণিজ্য নীতি মুখের কথা নয়। সেক্ষেত্রে শুধু জমিনীতি স্থিরই নয়, আবার তার উপর যাঁরা বিনিয়োগের ইচ্ছাপ্রকাশ করছেন তাঁদের প্রস্তাব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ওই বিনিয়োগকারী ঠিক কীরকম শিল্প তৈরি করতে চলেছেন, ওই শিল্পের মাধ্যমে কতজনের কর্মসংস্থান হবে, তার সঙ্গে আদৌ কোনও অনুসারী শিল্প হওয়া সম্ভব কিনা – সবকিছু খতিয়ে দেখে চলতি মাসেই বাণিজ্য নীতি তৈরি করার কথা স্থির করেছিল রাজ্য সরকার। তা স্থির করতে কেন বাড়তি একমাস সময় লাগবে, তা ব্য়াখ্যা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, “আমরা বলেছিলাম ১৫ আগস্টের মধ্যে করব। কিন্তু একটু আন্ডার এস্টিমেট করেছিলাম। এটা অনেক জটিল অবস্থায় আছে। আমরা এটা ১৫-১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চেষ্টা করছি। ১ মাস আরও লাগবে।”
মন্ত্রীর আরও দাবি, পূর্বতন রাজ্য সরকার বাণিজ্য পরিস্থিতির যেন শিরদাঁড়াই ভেঙে দিয়েছে। রাজ্যের ঋণের বোঝা প্রায় আকাশছোঁয়া বলে জানান। তিনি দাবি করেন, এখনও পর্যন্ত বাংলায় ৮ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ। তা সামলে তবেই যে শিল্পনীতি স্থির করতে হবে, তা জানান মন্ত্রী। তাঁর দাবি, “এরকম কোনও ব্যাঙ্কের ঋণের বোঝা থাকলে লালবাতি জ্বলে যেত।” মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৭০ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্র বাংলাকে দিয়েছে। আর সে কারণে কেন্দ্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাকে এগোতে হবে বলেই দাবি মন্ত্রীর। তাঁর কথায়, “আমরা পায়ে পা দিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে ঝগড়া করব না। কিছু ক্ষেত্রে অশান্তি হতে পারে। কিন্তু এমন বলব না যে সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠেছে। আগে এমনও হয়েছে মাঝপথে প্রকল্প থেমে গিয়েছে। তবে এখন এমন যেন না হয়।” রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিস্থিতি তৈরি করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীদের উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, শিল্পপতিরা যাতে ওড়িশা, গুজরাট, মহারাষ্ট্রের মতো জমি, কর, বিদ্যুৎ এবং আর্থিক সুবিধার সমন্বয়ে নতুন প্যাকেজ পায়, তা তৈরির উদ্যোগও শুরু হয়েছে বলেই খবর।