• আইন পড়ুয়াদের লাইসেন্স আটকাতে চেয়েছিলেন, ১৫০ কোটির দুর্নীতিতে বিদ্ধ সেই বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান
    প্রতিদিন | ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • বার কাউন্সিলের অন্দরে বড়সড় দুর্নীতি! খোদ চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্রর বিরুদ্ধে ১৫০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগ। স্বজনপোষণ, একাধিপত্যের মতো অভিযোগও রয়েছে মননের বিরুদ্ধে। তাঁর ইস্তফা চাইছেন বার কাউন্সিলেরই কো-চেয়ারম্যান তথা প্রবীণ আইনজীবী ওয়াই আর সদাশিব রেড্ডি।

    মনন কুমার মিশ্রকে লেখা একটি ছ’পাতার চিঠিতে সদাশিব রেড্ডি রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। তাঁর দাবি, বার কাউন্সিলকে বাঁচাতে এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্থার ভাবমূর্তি বজায় রাখতে বর্তমান চেয়ারম্যানের সরে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনও পথ নেই। ১৫ দিনের মধ্যে তাঁকে ইস্তফা দিতে হবে। রেড্ডির দাবি, মনন মিশ্র ইচ্ছাকৃতভাবে বার কাউন্সিলের পুরনো ট্রাস্টটিকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছেন। এবং ওই ট্রাস্টে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আইনজীবীদের দেওয়া ১৫০ কোটির তহবিল নিজের নামে রেজিস্ট্রি করা অন্য একটি ট্রাস্টে স্থানান্তরিত করেছেন। যার কোনও আইনি সংস্থান নেই। এমনকী কাউন্সিলের কোনও সদস্যই ওই ট্রাস্টের মূল দলিলটি পর্যন্ত দেখেননি বলে তাঁর দাবি।

    বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, যে সমস্ত আইন কলেজ বিসিআইয়ের অনুমোদন বা তার নবীকরণের জন্য আবেদন করছে, তাদের ওপর নতুন এই ট্রাস্টে মোটা অঙ্কের ‘অনুদান’ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অঙ্কটা ২৫ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত। এখানেই শেষ নয়, কাউন্সিলের কর্মী ও আধিকারিকদের একটি বিশাল অংশ চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্রের ব্যক্তিগত পরিচিত বা পরিবারের সদস্য। সব মিলিয়ে মনন বার কাউন্সিলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন।

    এই মনন মিশ্র বেশ কিছুদিন ধরে এমনিই শিরোনামে। দিন কয়েক আগে হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন উৎসবে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে। এর বিরোধিতা করেন পড়ুয়াদের একাংশ। নেপথ্যে প্রধান বিচারপতির ‘ককরোচ’ মন্তব্য। শেষমেশ পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে নালসার সমাবর্তনে যেতে পারেননি প্রধান বিচারপতি। তাতে ক্ষোভপ্রকাশ করেন এই মনন মিশ্র। বার কাউন্সিলের তরফে এক নির্দেশিকায় দেশের সব বার কাউন্সিলকে জানিয়ে দেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের ২০২৬ সালের কোনও স্নাতককেই কোনও রাজ্যের বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে না। তাঁর ওই নির্দেশ নিয়ে ঘোর বিতর্ক হয়। পরে ওই বিতর্কের জেরে সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসনে মনন। এবার তিনি নয়া বিতর্কে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)