আগামী ১০ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা। এই সময় দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তসমাগম হয় সিদ্ধপীঠ তারাপীঠে। ইতিমধ্যে সেই প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তা থেকে শুরু করে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এবার নাকি কৌশিকী অমাবস্যায় বন্ধ থাকবে মদ বিক্রি! আর এহেন প্রস্তাবের বিরোধীতায় সরব হলেন মদ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, এই সময় তারাপীঠে বিপুল পরিমাণ মদ বিক্রি হয়। এর ফলে সরকারের একদিকে বিপুল রাজস্ব আয় হয়, তেমনই ব্যবসায়ীরাও আর্থিকভাবে লাভবান হন। তিন দিন বিক্রি বন্ধ থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে তাঁদের পড়তে হবে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
কৌশিকী অমাবস্যার প্রস্তুতি নিয়ে সম্প্রতি তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পরিষদের দপ্তরের প্রশাসনিক বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা জানিয়েছিলেন, কৌশিকী অমাবস্যার দু’দিন আগে থেকে মোট তিন দিন তারাপীঠে মদ বিক্রি বন্ধ রাখার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। আর তা নিয়েই শুরু হয় বিভ্রান্তি। তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়নি বলে আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে এহেন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তারাপীঠের একটি বেসরকারি লজে সম্মেলনের আয়োজন করেন বীরভূমের মদ ব্যবসায়ীরা। সেখানে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বও। সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, কৌশিকী অমাবস্যার সময় তারাপীঠে মদ বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নিতে রাজি নন। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে মদ বিক্রির বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হলেও হঠাৎ করে তিন দিনের ব্যবসা বন্ধ হলে তাঁদের বড় আর্থিক ক্ষতি হবে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়বে বলে তাঁদের দাবি।
বলে রাখা প্রয়োজন, আবগারি দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে তিন দিনে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তারাপীঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপীঠের ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতে ও উৎসবের দিনগুলিতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মদ বিক্রি বন্ধ রাখার দাবি বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসছিল।