এই সময়, হাওড়া: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কাছে হাওড়ার শিবপুরে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইইএসটি)-কে আইআইটিতে উন্নীত করার প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ ঘিরে উৎসাহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে প্রতিষ্ঠান চত্বরে। শিক্ষক, আধিকারিক, কর্মী সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি, ছাত্র-ছাত্রীরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে শুধু প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাই বাড়বে না, পশ্চিমবঙ্গে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান ও শিল্প-শিক্ষার সংযোগের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।
শিবপুর আইআইইএসটি-র রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, 'আইআইইএসটি-কে আইআইটিতে উন্নীত করা গেলে এটি শুধু প্রতিষ্ঠানের নয়, গোটা রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।' তাঁর মতে, একই রাজ্যে আইআইটি খড়্গপুরের পাশাপাশি আরও একটি আইআইটি থাকলে, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিসর বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। উন্নত গবেষণাগার, আধুনিক পরিকাঠামো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নতুন নতুন গবেষণা প্রকল্পের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের রাজ্যের বাইরে না গিয়েও বিশ্বমানের প্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে।
আইআইইএসটির জয়েন্ট এইচআর, অ্যাকাডেমি ও পাবলিক রিলেশনস অফিসার নির্মাল্যকুমার ভট্টাচার্য বলেন, 'আইআইটি ব্র্যান্ড নিঃসন্দেহে দেশের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষার পরিচয়। আইআইইএসটির নিজস্ব ঐতিহ্য ও সাফল্য রয়েছে। ১৮৫৬ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের ক্ষেত্রে আইআইটি মর্যাদা আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে। এতে গবেষণা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, শিল্প-সহযোগিতা এবং ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে।'
ছাত্রছাত্রীরা জানান, এখানকার পরিকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ ইতিমধ্যেই আইআইটির মতো। যদি আনুষ্ঠানিক ভাবে আইআইটি হয়, তা হলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত বড় সুযোগ হবে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁরা একে খুবই ইতিবাচক ভাবে দেখছেন। আইআইইএসটি এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মলয় গড়াই জানান, বর্তমান রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে তাঁরা আন্তরিক ভাবে স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি জানান, এর আগেও আনন্দকৃষ্ণ কমিটি আইআইইএসটি-কে আইআইটি করার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সেই সময়ে বিষয়টি আর এগোয়নি। এ বার নতুন করে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। তাঁর মতে, আইআইটি হলে আরও বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রী সারা দেশ থেকে এখানে পড়তে আসবেন, শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
আইআইইএসটি শিবপুর অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিভোর দাস বলেন, 'এটি অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আইআইইএসটি দেশের অন্যতম প্রাচীন প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর এই ভাবনা পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষার মান আরও উন্নত করবে। এক সময়ে শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলার যে ঐতিহ্য ছিল, এই উদ্যোগ সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে প্রয়োজনীয় সব রকম সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত।' প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংগঠনের সভাপতি সঞ্জয় সিং বলেন, 'আমরা বহু দিন ধরেই মনে করি, প্রায় ১৭০ বছরের ঐতিহ্যবাহী আইআইইএসটি আইআইটি হওয়ার যোগ্য। অতীতেও এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ বার রাজ্য সরকারের উদ্যোগকে। আমরা সম্পূর্ণ সমর্থন জানাই।' প্রথম বর্ষের ছাত্র প্রতীক মাজি-বলেন, 'আইআইটি হলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে। বড় বড় সংস্থা ক্যাম্পাসে নিয়োগে আগ্রহ দেখাবে। প্লেসমেন্টের সুযোগ বাড়বে।' উল্লেখ্য, শিবপুরের আইআইইএসটি দেশের অন্যতম প্রাচীন প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ঐতিহ্য ও শিক্ষাগত সাফল্যের কারণে বহু দিন ধরেই এই প্রতিষ্ঠানকে আইআইটিতে উন্নীত করার দাবি উঠেছে। এ বার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে সেই দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।