• অনুদান নিয়ে ধন্দ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সঙ্কটে বারোয়ারি পুজো
    এই সময় | ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • প্রদীপ চক্রবর্তী, শ্রীরামপুর

    রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আঁচ পড়েছে দুর্গাপুজোর বাজারে। পুজোর মাত্র মাস দুয়েক আগে চাতরা কুমোরপাড়ার প্রতিমা শিল্পীরা মানছেন সে কথা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির তুলনায় মানুষের আয়-উপার্জন কম থাকায়, পুজোর বাজেটে কাটছাঁট করেছে বারোয়ারি পুজো কমিটিগুলি। এ ছাড়া, রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে কোন কোন বারোয়ারি কমিটি পুজোর অনুদান পাবে, সেই বিষয়েও এখনও কিছু স্পষ্ট নয়। সেই কারণেই বারোয়ারি কমিটিগুলি ঠাকুর, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য খাতে খরচ কমিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, অনেক বারোয়ারি কমিটির পুজো আগের তুলনায় জৌলুস হারাবে বলে মানছেন অনেকেই।

    শ্রীরামপুর কুমোরপাড়া, পটুয়াপাড়ার মৃৎশিল্পীরা জানিয়েছেন, এ বারে দুর্গা প্রতিমা তৈরির জন্য বিশেষ ধরনের কালো এঁটেল মাটি মিলছিল না। পরবর্তী সময়ে মাটি পেলেও, দ্বিগুণেরও বেশি দাম দিয়ে কিনে, সমস্যার মোকাবিলা করেছেন মৃৎশিল্পীরা। কিন্তু এর পরেও প্রতিমা তৈরির জন্য দক্ষ কারিগর মিলছে না। ঠাকুর তৈরির ক্ষেত্রে অধিকাংশ কারিগরকে গ্রামীণ এলাকা থেকে আনতে হয়। এ বার রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে, গ্রামীণ এলাকার সব কারিগর ১২৫ দিনের কাজের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। যে কারণে, পুজোর আগে ঠাকুর তৈরি ঘিরে কারিগরের সঙ্কট তৈরি হয়েছে মৃৎশিল্পীদের ঘরে। এ ছাড়া, প্রতিমা তৈরি করতে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কেউ আর এগিয়ে আসছেন না। ফলে, মৃৎশিল্পী তৈরিতে ভাটা পড়েছে। পুরোনো যাঁরা আছেন, তাঁরাই কোনও রকমে কাজ করছেন। তবে একটা দুর্গা প্রতিমা তৈরি করতে কমবেশি তিন মাস সময় লাগে। সেখানে কারিগরদের খরচ জোটাতে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যায়।

    রিষড়ার মৃৎশিল্পী সুজয় মণ্ডল বলেন, 'এ বারে অধিকাংশ বারোয়ারি পুজোর বাজেট কমিয়ে দিয়েছে। তাতে ঠাকুর তৈরি করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে মাটি কিনতাম ৩৫ হাজারে, সেই মাটি এবার ৬৫ হাজারে কিনেছি। খড় ও সুতলির দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু ঠাকুরের দাম বাড়াতে নারাজ বারোয়ারি কমিটি।' চাতরা কুমোরপাড়ার মৃৎশিল্পী প্রবীর পাল বলেন, 'বেশ কয়েক বছর ধরে ছোট-বড় সব ধরনের বারোয়ারি সরকারি অনুদান পেত। ফলে, ঠাকুরের বাজেট নির্দিষ্ট ছিল। কিন্তু এ বার নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে পুজোর অনুদান নিয়ে কিছু ঘোষণা করেনি। অনেক বারোয়ারি ধরে নিয়েছে, তারা সরকারি অনুদান পাবে না। সেই কারণে ঠাকুরের দাম বাড়াতে চায়নি। কেউ কেউ আবার বিগত বছরের তুলনায় ছোট ঠাকুর নিয়েছে।' প্রবীণ মৃৎশিল্পী স্বপন পাল বলেন, 'প্রথম দিকে এঁটেল মাটি পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সেই মাটি পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু ঠাকুর তৈরির কারিগরের খুব আকাল। সেই কারণে বেশি মাত্রায় ঠাকুর তৈরির বরাত নিতে পারিনি। তবে শুধু মৃৎশিল্পী নয়, এ বারে পুজো আগে সমস্ত জিনিসের দাম বাড়ার কারণে বাজারে একটা মন্দা ভাব দেখা দিয়েছে। যেটা সাধারণ মানুষ থেকে বারোয়ারি পুজো কমিটি, সবার কাছেই খুব চ্যালেঞ্জিং।'

  • Link to this news (এই সময়)