সামান্য পারিবারিক অশান্তি থেকে এমন ভয়াবহ পরিণতি হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি দিল্লির নিহাল বিহারের বাসিন্দা বিনয় গুপ্তের পরিবার। শিশুকে ওষুধ খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে সামান্য পারিবারিক বচসা। আর তার জেরেই চরম পরিণতি। দিল্লির নিহাল বিহার এলাকায় শ্বশুরবাড়ির লোকেদের নির্মম প্রহারে প্রাণ হারালেন ৩১ বছর বয়সি তরুণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি নয়ডার বিখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাডোব (Adobe)-তে কর্মরত ছিলেন। ৩১ বছরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বিনয়কে তাঁর স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ঢুকে মারধর করে খুন করেছেন বলে অভিযোগ।
বিনয় গুপ্ত নয়ডায় Adobe-তে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। দিল্লির নিহাল বিহারের লক্ষ্মী পার্ক এলাকায় স্ত্রী রেখা, বাবা-মা এবং তাঁদের সদ্যোজাত যমজ সন্তানদের নিয়ে থাকতেন তিনি। শুক্রবার সকালে সন্তানকে ওষুধ খাওয়ানো নিয়ে বিনয় ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে বচসা হয় বলে পুলিশ ও পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা গিয়েছে। এর পরে রেখা বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফোন করেন বলে অভিযোগ।
কিছুক্ষণ পরে রেখা তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। বিনয়ের মা প্রথমে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেননি। তাঁর কথায়, তাঁরা ভেবেছিলেন আত্মীয়রা এসেছেন এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হবে। বিনয়ের বাবা তাঁদের বসতে বলেন এবং মা জল আনতে যান।
অভিযোগ, বাড়িতে ঢুকেই বাপের বাড়ির লোকেরা বিনয়ের ওপর চড়াও হয়। তাঁকে বেধড়ক মারধর করার পাশাপাশি তাঁর গলা টিপে ধরা হয় এবং বুকে নির্মমভাবে লাথি-ঘুষি মারা হয়। বিনয়ের বাবা-মা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাঁদেরও ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। হামলায় বিনয়ের বাবার হাতের আঙুল ভেঙে যায়।
বিনয়ের মায়ের অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে বিছানায় ফেলে মারধর করছে। তাঁর দাবি, বিনয়কে হাত-পা ধরে আটকে রাখা হয়েছিল, গলায় চাপ দেওয়া হচ্ছিল এবং পেটে ও বুকে ঘুষি-লাথি মারা হচ্ছিল। ছেলে যাতে আর আক্রান্ত না হয়, সেই চেষ্টা করলে তাঁকেও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিনয়ের বাবাকেও আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ।
বিনয়ের মা রেণু ও ভাই প্রদীপের দাবি, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। ঘটনার সময় বাড়ির সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরাও বন্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। মারধরের পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিনয়কে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কাঁদতে কাঁদতে বিনয়ের মা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, হামলাকারীরা তাঁর ছেলেকে গলা টিপে ধরে এবং বুকে উঠে মারধর করে। তাঁর অভিযোগ, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিনয় অজ্ঞান হয়ে যান। প্রতিবেশীদের সাহায্যের জন্য ডাকলেও ততক্ষণে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। বিনয়ের মা জানিয়েছেন, তাঁর একমাত্র সন্তান ছিলেন বিনয়। তাঁর বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত এবং এই ঘটনায় পরিবারটি কার্যত ভেঙে পড়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তদন্তে নেমেছে দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৩(১) (হত্যা) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃত বিনয়ের স্ত্রী রেখা ও তাঁর দুই ভাই-সহ মোট চারজনকে আটক করেছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।
প্রশ্ন: দিল্লিতে নিহত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের নাম কী?
উত্তর: নিহত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের নাম বিনয় গুপ্ত। তাঁর বয়স ৩১ বছর।
প্রশ্ন: বিনয় গুপ্ত কোথায় কাজ করতেন?
উত্তর: বিনয় নয়ডার প্রযুক্তি সংস্থা Adobe-তে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রশ্ন: কোথায় বিনয় গুপ্তের মৃত্যু হয়?
উত্তর: দিল্লির নিহাল বিহারের লক্ষ্মী পার্ক এলাকায় তাঁর বাড়িতে হামলার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রশ্ন: কী নিয়ে এই ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তর: পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, সদ্যোজাত সন্তানের ওষুধ খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে বিনয় ও তাঁর স্ত্রী রেখার মধ্যে বচসা হয়। এরপর স্ত্রী তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফোন করেন বলে অভিযোগ।
প্রশ্ন: বিনয়কে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ?
উত্তর: অভিযোগ, বাড়িতে ঢুকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে মারধর করে, গলা টিপে ধরে এবং বুকে ও পেটে লাথি-ঘুষি মারে।
প্রশ্ন: ঘটনায় কতজনকে আটক করেছে পুলিশ?
উত্তর: বিনয়ের স্ত্রী রেখা ও তাঁর দুই ভাই-সহ মোট চারজনকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ বলে জানা গিয়েছে।
প্রশ্ন: কোন ধারায় মামলা হয়েছে?
উত্তর: ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৩(১) ধারা এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
প্রশ্ন: CCTV নিয়ে কী অভিযোগ উঠেছে?
উত্তর: বিনয়ের মা ও ভাইয়ের অভিযোগ, ঘটনার সময় বাড়ির CCTV ক্যামেরা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।