• বহুজন এনসিপিআই! বিতর্কের জেরে পোস্ট বদল কাকলি-পুত্রের
    এই সময় | ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি: লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়ার পরেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের আইনি স্বীকৃতি দেননি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এ নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি রয়েইছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার সমেত এনসিপিআই সাংসদদের। তার মধ্যে আবার শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কাকলির পুত্র, চিকিৎসক বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের একটি পোস্ট ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

    শনিবার এই পোস্টে তিনি 'বহুজন এনসিপিআই' বলে একটি শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন৷ দলিত, মুসলিম, জনজাতি-উপজাতি, ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষকে এই 'বহুজন এনসিপিআই'য়ে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছিল ওই পোস্টে। যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছিল সেখানে। পোস্টে আরও বলা হয়, দলীয় সমস্ত পদে দলিত, অতি অনগ্রসর শ্রেণি, মহাদলিত, মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের জন্য ২৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপরেই জল্পনা শুরু হয়, এনসিপিআই বা 'ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার' মধ্যে কি আবার নতুন কোনও বিভাজন শুরু হলো?

    যদিও এই বিষয় নিয়ে বৈদ্যনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'এটা আলাদা নয়। বরং বলা ভালো, দলের একটি উইং বা শাখা অথবা ট্রাস্ট। এই শাখা আদিবাসী, মুসলিম, তফসিলি উপজাতি, দলিতদের জন্য কাজ করবে। তাদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সমাজসেবামূলক কাজ করা হবে।'

    কাকলি আবার ব্যাখ্যা দেন, 'আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া সেল থেকেই এটা পোস্ট করা হয়েছে। নতুন দলে আমরা ২০ জন সাংসদ গত অধিবেশনেও কাজ করেছি এবং আগামী দিনেও কাজ করব। এনসিপিআই সবাইকে নিয়ে চলবে। বিশেষ করে, সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, দলিত সম্প্রদায়, মহিলা ও অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল মানুষদের নিয়ে আমরা এগোবো।'

    যদিও কাকলি বা তাঁর ছেলে বৈদ্যনাথ ব্যাখ্যা দিলেও এই ইস্যুতে এনসিপিআই শিবিরে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে৷ সূত্রের দাবি, শনিবার বিকেলে এনসিপিআইয়ের সাংসদরা নিজেদের মধ্যে একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন৷ এখানে হাজির প্রত্যেক সাংসদ এই পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে এনসিপিআই সূত্রের দাবি৷

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাখিবন্ধনের দিন সারা দেশে সব এনডিএ সাংসদদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন৷ সূত্রের খবর, এ দিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে একাধিক এনসিপিআই সাংসদ প্রশ্ন তোলেন, 'যে কোনও অরাজনৈতিক মঞ্চের মাধ্যমে যদি সেই অনুষ্ঠান করা যায়, তা হলে এমন একটি নতুন সংগঠনের নাম করে পোস্ট করার কী প্রয়োজন?' ভার্চুয়াল মিটিংয়ের পরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এনসিপিআই সাংসদের অকপট স্বীকারোক্তি, 'এমনিতেই আমরা প্রতিদিন অস্তিত্ব সঙ্কটের সঙ্গে যুঝছি৷ কী ভাবে কবে পায়ের তলার মাটি শক্তি হবে, জানি না৷ নিজেদের এলাকায় কোনও উন্নয়নমুখী কাজ করতে পারছি না৷ তার উপরে আজকের পোস্ট নিয়ে নতুন করে বিতর্ক হলো!' এই পোস্টটি তুলে নিয়ে কাকলি–পুত্র নতুন একটি পোস্ট করেন। সেখানে 'ওয়েস্ট বেঙ্গল এনসিপিআই' লেখেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)