অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাডার একটি নার্সিং কলেজে মোবাইল ফোন হারানোকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর পড়ুয়াদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। ২১ অগস্টের এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন উত্তর-পূর্ব ভারতের পড়ুয়ারা। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মণিপুরের ছাত্রীরা। স্থানীয় তেলুগুভাষী পড়ুয়াদের সঙ্গে তাঁদের বচসা পরে সংঘর্ষের আকার নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
ঘটনাটি ঘটে কাকিনাডার এস কে কলেজ অফ নার্সিং-এর হস্টেলে। জানা গিয়েছে, জানা গিয়েছে, গত ২১ অগস্ট উত্তর-পূর্ব ভারতের এক পড়ুয়ার মোবাইল ফোন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সেই ফোন হারানোকে কেন্দ্র করেই প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে তা দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আকার নেয়। ঘটনায় উত্তর-পূর্বের কয়েকজন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। উত্তেজনার সময়ে কয়েকজন পড়ুয়া হস্টেলের ভিতরে আশ্রয় নেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কাকিনাডার জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপার হস্টেলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করেন। নতুন করে যাতে সংঘর্ষ না হয়, সে জন্য উত্তর-পূর্বের পড়ুয়াদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অন্য রাজ্যের ৩১ জন পড়ুয়াকেও তাঁদের সম্মতিতে পৃথক একটি হস্টেলে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন ও পুলিশের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঘটনাটি অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নায়ডুর দপ্তরেরও নজরে আসে। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি পর্যালোচনা করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশের পরে জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের দাবি, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।
ঘটনার পরে মণিপুরের পড়ুয়ারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁরা জানিয়েছেন, আলাদা থাকার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পাওয়ার পর তাঁরা নিরাপদে রয়েছেন। মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং-ও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তিনি জানান, পড়ুয়াদের অন্য একটি বিল্ডিংয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং রাতে তাঁদের নিরাপত্তার জন্য একজন মহিলা সাব-ইনস্পেক্টরকে সেখানে রাখা হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপের জন্য নায়ডুকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উত্তর-পূর্বের পড়ুয়ারাও প্রশাসনের ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট। তবে একটি মোবাইল ফোন হারানোকে কেন্দ্র করে কীভাবে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এতটা উত্তেজনা তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেই বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
প্রশ্ন: কাকিনাডার নার্সিং কলেজে কেন সংঘর্ষ হয়েছিল?
উত্তর: একটি মোবাইল ফোন হারানোকে কেন্দ্র করে উত্তর-পূর্ব ভারতের পড়ুয়া এবং স্থানীয় তেলুগুভাষী পড়ুয়াদের মধ্যে প্রথমে বচসা হয়। পরে তা সংঘর্ষে গড়ায়।
প্রশ্ন: ঘটনাটি কোন কলেজে ঘটেছে?
উত্তর: অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাডার SK College of Nursing-এর হস্টেলে ঘটনাটি ঘটে।
প্রশ্ন: সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন?
উত্তর: উত্তর-পূর্ব ভারতের পড়ুয়াদের সঙ্গে স্থানীয় তেলুগুভাষী পড়ুয়াদের বচসা ও সংঘর্ষ হয় বলে জানা গিয়েছে। উত্তর-পূর্বের পড়ুয়াদের মধ্যে অধিকাংশই মণিপুরের ছাত্রী।
প্রশ্ন: সংঘর্ষে কেউ আহত হয়েছেন কি?
উত্তর: ঘটনায় উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকজন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রশ্ন: কেন পড়ুয়াদের অন্য হস্টেলে সরানো হয়েছে?
উত্তর: নতুন করে যাতে কোনও সংঘর্ষ না হয় এবং পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সেই কারণে তাঁদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রশ্ন: কতজন পড়ুয়াকে সরানো হয়েছে?
উত্তর: সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অন্য রাজ্যের ৩১ জন পড়ুয়াকে তাঁদের সম্মতিতে পৃথক একটি হস্টেলে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু কী পদক্ষেপ করেছেন?
উত্তর: মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি পর্যালোচনা করে আধিকারিকদের দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার এবং পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
প্রশ্ন: মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং কী বলেছেন?
উত্তর: তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানান, পড়ুয়াদের অন্য একটি বিল্ডিংয়ে সরানো হয়েছে। রাতে তাঁদের নিরাপত্তার জন্য একজন মহিলা সাব-ইনস্পেক্টরকেও রাখা হয়েছিল।