• স্বাস্থ্যসাথীতে বন্ধ ডায়ালিসিস, টাকা না-দিলে অমিল পরিষেবা, বিপাকে রোগীরা
    এই সময় | ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, আসানসোল

    স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে ডায়ালিসিস পরিষেবা আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দুঃস্থ রোগীরা। মাসে সাত-আট বার ডায়ালিসিস করাতে ১০-১২ হাজার টাকা খরচ করা তাঁদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। শনিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল ও কুলটির একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমে বিষয়টি সামনে আসে।

    রূপনারায়ণপুরের বাসিন্দা অটোচালক দেবাশিস ঘোষ গত চার বছর ধরে আসানসোলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথীর পরিষেবায় বিনামূল্যে ডায়ালিসিস করাচ্ছেন। সোমবার তাঁর পরবর্তী ডায়ালিসিসের দিন। কিন্তু তার আগে শনিবার হাসপাতাল থেকে তাঁকে নগদ ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা আনার কথা বলা হয়েছে। অভাবের সংসারে হঠাৎ এই ধাক্কায় দিশাহারা বছর ৫২-র এই প্রৌঢ়ের আবেদন, ‘বিকল্প হিসেবে আয়ুষ্মান ভারত বা মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত কার্যকর করে দিলে এই বড় বিপদের সমাধান হতে পারে।’

    একই দুর্ভোগের শিকার সালানপুরের ডাবর গ্রামের বাসিন্দা কাজল মাহাতো। এ দিন ডায়ালিসিসের জন্য আসানসোলের ওই একই হাসপাতালে গেলে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়, টাকা লাগবে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড চলবে না। তাঁর স্ত্রী মিঠু মাহাতো কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘অসুস্থ স্বামী নিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। ডায়ালিসিস ছাড়াই যে কয়েকদিন বাঁচার বাঁচবেন।’ এ নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ তুমুল তর্কবিতর্কের পরে শনিবার বিনামূল্যে ডায়ালিসিস করা হলেও মঙ্গলবার পরবর্তী ডায়ালিসিসের সময়ে টাকা আনার নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। কুলটির একটি বেসরকারি হাসপাতালেও একই ঘটনা সামনে এসেছে।

    হঠাৎ কেন বন্ধ এই পরিষেবা? আসানসোলের ওই হাসপাতালের অন্যতম কর্ণধার প্রদ্যুৎ দত্ত বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে দু’দিন ধরে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে ডায়ালিসিস পরিষেবা ব্লক হয়ে গিয়েছে। জেলাশাসকের দপ্তরে জানিয়েও সমাধান পাইনি। শুনছি এরকম আরও কিছু হাসপাতালে হয়েছে। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে স্বাস্থ্যসাথী উপভোক্তা রোগী পিছু ৯৯৫ টাকা পাই। নগদে কেউ ডায়ালিসিস পরিষেবা নিলে তার খরচ ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা। অন্তত শ’খানেক রোগী এই হাসপাতালে ডায়ালিসিস করান ।’

    সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মহম্মদ ইউনুস। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর তিনি বলেন, ‘সম্ভবত নেফ্রোলজিস্ট বা কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংক্রান্ত কোনও প্রযুক্তিগত বা নিয়মের জটিলতার কারণে পরিষেবা বন্ধ হয়ে থাকতে পারে।’ বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরে শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসন, রাজ্য স্বাস্থ্য সচিব এবং ডিরেক্টর অফ হেলথ সার্ভিসের যৌথ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে লিখিত আবেদন পাঠিয়ে দ্রুত এই অচলাবস্থা কাটানোর আর্জি জানিয়েছেন সিএমওএইচ।

  • Link to this news (এই সময়)