• আয়ুষ্মানে সমস্যা থাকলে তবেই চিকিৎসা স্বাস্থ্যসাথীতে, ঘোষণা রাজ্যের
    এই সময় | ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্যে এখন একই সঙ্গে চালু ‘স্বাস্থ্যসাথী’ ও ‘আয়ুষ্মান ভারত’। কখন কোন প্রকল্পের সুবিধে মিলবে, তা ঠিক করতে হাসপাতালে রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম বেঁধে দিল স্বাস্থ্য দপ্তর।

    নয়া স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধেপ্রাপক কোনও রোগী হাসপাতালে গেলে প্রথমে দেখা হবে, তিনি আয়ুষ্মান ভারতের জন্য যোগ্য কি না। যদি তাঁর আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি হয়ে থাকে, তা হলে প্রথমে ওই প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। শুধুমাত্র আয়ুষ্মান ভারতের ‘টিএমএস’ পোর্টালে কোনও প্রযুক্তিগত বা অন্য সমস্যা দেখা দিলে, প্রয়োজনীয় নথি ও স্ক্রিনশট জমা দিয়ে তবেই স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় চিকিৎসা করা যাবে। আর কেউ যদি আয়ুষ্মানের যোগ্য না–হন, তখন স্বাস্থ্যসাথীতেই চিকিৎসা হবে। শুক্রবার হাসপাতালগুলির কাছে পাঠানো এসওপি–তে এই নির্দেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে স্বাস্থ্যভবন।

    এসওপি অনুযায়ী, রোগী ভর্তির সময়ে প্রথমেই ট্রানজ়্যাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (টিএমএস) পোর্টালে আধার নম্বর দিয়ে খুঁজতে হবে। যদি দেখা যায়, রোগীর আয়ুষ্মান ভারত কার্ড প্রিন্ট হয়ে গিয়েছে, তা হলে হাসপাতালকে আয়ুষ্মানের অধীন অপশনে গিয়ে চিকিৎসা প্রক্রিয়া এগোতে হবে। কোনও কারণে আয়ুষ্মান পোর্টালে চিকিৎসার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা না গেলে হাসপাতালকে ‘ফেসিং ইস্যু’ অপশন বেছে নিতে হবে। কী সমস্যা হয়েছে, তার বিবরণ ও স্ক্রিনশট আপলোড করা এ ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। এই তথ্য জমা দেওয়ার পরে ‘প্রসিড টু স্বাস্থ্যসাথী’ অপশন চালু হবে। অর্থাৎ, যথাযথ কারণ না দেখিয়ে সরাসরি স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় ট্রিটমেন্ট হবে না।

    নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, রোগীর নাম আয়ুষ্মানের তালিকায় থাকা সত্ত্বেও যদি তাঁর কার্ড অনুমোদনের অপেক্ষায়, সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় চিকিৎসা চলবে। আবার ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না হলে প্রথমে সেটি করার চেষ্টা করতে হবে। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশনও করাতে হবে।

    অন্যদিকে, রোগীর নাম যদি কোনও তালিকাতেই না থাকে, তা হলে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার ফর্ম পূরণ করিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে চিকিৎসা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিংহোম’–এর সচিব রাজীব পাণ্ডে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথীর পাশাপাশি আয়ুষ্মান ভারত চালুর পরে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, সরকারি এসওপি–তে তা অনেকটাই কেটেছে। আমরা সাংগঠনিক ভাবে এই নির্দেশিকাকে স্বাগত জানাচ্ছি।’

    স্বাস্থ্যকর্তারাও জানান, রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত শুরুর পরে দুই প্রকল্পের সুবিধেপ্রাপকদের মধ্যে সমন্বয় সাধনই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে এখন প্রায় ৮.৫ কোটি মানুষের নাম নথিভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই বাংলার ৩.৪ কোটি মানুষ নথিভুক্ত হয়েছেন আয়ুষ্মান ভারতে। এঁদের মধ্যে প্রায় ১.২৩ কোটির আয়ুষ্মান কার্ড তৈরিও হয়েছে। পাশাপাশি, যাঁরা আয়ুষ্মানের আওতায় আসছেন না, তাঁদের জন্য (প্রায় ৮০ লক্ষ) মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)