ছাব্বিশ হাজার চাকরি বাতিল: যোগ্যদের মেয়াদ বৃদ্ধিতে সুপ্রিম কোর্টে এসএসসি ও পর্ষদ
প্রতিদিন | ২৩ আগস্ট ২০২৬
বিগত সরকারের আমলের বাতিল প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের একাংশের চাকরির মেয়াদ ৩১ আগস্ট শেষ হতে চলেছে। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও কিছুটা বাকি। এই অবস্থায় কর্মরত শিক্ষকরা স্কুলে আসা বন্ধ করলে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর প্রভাব পড়বে। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে নিজের দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরিকে পাশে বসিয়ে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন বলেন, “এসএসসির ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় যোগ্য প্রার্থীদের চাকরির মেয়াদ ৩১ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেই মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।”
শনিবার দুপুরে উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদে সারদা বিদ্যামন্দির ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজ্ঞান মেলা’য় যোগ দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অর্ণব সেন এবং আয়োজক স্কুলের প্রধান আচার্য বিমলচন্দ্র দাস প্রমুখ। সেখানেই ২৬ হাজার শিক্ষক বাতিলের প্রসঙ্গ ওঠে। স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে স্বচ্ছ করার জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাথায় সরকারি আমলাকে চেয়ারম্যানের পদে বসিয়ে কমিটি তৈরি করা হয়েছে। ওই কমিটি নিয়োগের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানানো হয়েছে।”
উল্লেখ্য, তৃণমূল আমলে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল,যোগ্য- অযোগ্য বাছাই করা যায়নি। তাই গোটা প্যানেল বাতিল করা হচ্ছে। তবে যোগ্য শিক্ষকদের একটি তালিকা তৈরি হয়েছিল। সেই মোতাবেক যোগ্যদের ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষকতার ছাড়পত্র দেওয়া হয়। রাজ্যকে পুনরায় নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে শিক্ষকদের মেয়াদ বাড়ে। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত স্কুলে আসার ছাড়পত্র মেলে। তবে নিয়োগ এখনও বাকি। তাই ফের আদালতে গেল পর্ষদ ও এসএসসি।
অন্যদিকে, ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীলতা ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করতে সারা রাজ্যের ২ হাজার হাই স্কুলে ‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাব’ (এটিএল) চালুর পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর হতে চলেছে। মন্ত্রী বলেন, “এই অত্যাধুনিক ল্যাবের মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তির একটা সার্বিক ধারণা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরবে স্কুল শিক্ষাদপ্তর। সেই প্রকল্পে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়য়াদের ক্ষেত্রে আধুনিক উদ্ভাবন ও কর্মক্ষেত্রে নতুন ওই ল্যাব যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করবে। রোবটিক সায়েন্সের উপর বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে। সেই সঙ্গে থ্রি-ডি প্রিন্টার, সেন্সর, এবং ওপেন-সোর্স মাইক্রোকন্ট্রোলার বোর্ড থাকবে। যাতে আগামীতে ছাত্রদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।”