বিধানসভার গ্রন্থাগার থেকে নেওয়া রবীন্দ্রনাথের ১৯টি বই ‘ফেরত’ দেননি মমতা! আতান্তরে কর্মীরা
প্রতিদিন | ২৩ আগস্ট ২০২৬
রবীন্দ্রনাথের ১৯টি বই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জিম্মায়। রবীন্দ্র রচনাবলীর ১৮টি খণ্ড এবং অপরটি সঞ্চয়িতা। বইগুলি ইস্যু করা হয়েছিল অনেক দিন আগেই। রাজ্যে পালাবদলের পরও সেগুলি জমা পড়েনি। ফলে কিছুটা আতান্তরে গ্রন্থাগারের কর্মীরা।
এমনিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্য চর্চা এবং শিল্প সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসার কথা সকলের জানা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নিজে লেখেন, ছবি আঁকেন, গানও গান। রবীন্দ্রনাথের বইগুলিও তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে নিয়েছিলেন পড়ার জন্য। গত ৪ মে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। নিজের কেন্দ্রেও পরাজিত হয়েছেন। ফলে তিনি আর বিধানসভার সদস্যও নন। অথচ তাঁর নামে ইস্যু হওয়া ওই ১৯টি বহুমূল্য বই আর ফেরত আসেনি।
সূত্রের দাবি, একপ্রকার বাধ্য হয়ে বিধানসভার গ্রন্থাবগারের কর্মীরা মমতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তিনি জানিয়ে দিয়েছেন বইগুলি তাঁর কাছে বা বাড়িতে নেই। রয়েছে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট চেম্বারে। যে দপ্তর কিনা এখন শুভেন্দু অধিকারীর হাতে। সমস্যা হল, বইগুলি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে থাকলেও খাতায় কলমে সেগুলি ‘ফেরত’ হিসাবে ততক্ষণ গণ্য হবে না যতক্ষণ সেগুলি গ্রন্থাগারে ফিরে না আসছে। আবার গ্রন্থাগারের কর্মীরা যে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে বই ফেরত নেবেন, সেটারও অধিকার তাঁদের নেই। সেজন্য আবার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতির প্রয়োজন। ঠিক একই সমস্যার জন্য প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ইস্যু হওয়া ১২টি বই এবং নথিও ফেরত নেওয়া হয়নি। এক সংবাদমাধ্যমের খবর, বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেও ১২টি বই বা নথি ইস্যু করা রয়েছে। তিনিও জানিয়েছেন ওই নথিগুলি রয়েছে স্পিকারের দপ্তরে। ফলে সেগুলিও ফেরত নিতে পারছেন না গ্রন্থাগারের কর্মীরা।
অবশ্য সবাই যে বই ফেরত দেননি তেমনটা নয়। সদ্য প্রয়াত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন সরকার পরিবর্তনের পরেই বিধানসভার গ্রন্থাগারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে তাঁর এক সহযোগী এসে আশিসের নামে ইস্যু হওয়া বইগুলি গ্রন্থাগারে ফেরত দিয়ে যান। গ্রন্থাগারের আধিকারিকরা বলছেন, এভাবে সবাই বই ফেরত দিলে, সমস্যায় পড়তে হয় না।