সব কিছুতেই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে রাজ্যে। ভোটার তালিকা বা এসআইআর-এ নাম না থাকলেও আত্মঘাতী হয়। তাই কোথায় কে কেন আত্মঘাতী হচ্ছে, খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। রাজ্য বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ-বিক্ষোভের আবহে অন্নপূর্ণ যোজনার টাকা না পেয়ে মালদার গাজলের এক মহিলা আত্মঘাতী হয়েছেন বলে যে অভিযোগ তুলেছে পরিবার, তার প্রেক্ষিতে এমনই মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
গাজলের বাচাহার গ্রামে শনিবার দুপুরে তিরিশের কোঠার অনীতা খাতুনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার দাবি করেছে, আবেদন না করেও অন্নপূর্ণার টাকা না পেয়ে অবসাদে আত্মঘাতী হন অনীতা। দাবি, তৃণমূল জমানায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন তিনি। কিন্তু অন্নপূর্ণায় অফলাইন ও অনলাইনে আবেদন করেও টাকা পাননি। এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক টানাপড়েনও শুরু হয়েছে। এ বার তা নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপও।
রবিবার সকালে প্রাতর্ভ্রমণ সেরে খড়্গপুরের বোগদায় চা চক্রে যোগ দেন মন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ‘এখানে সব কিছুতেই আত্মহত্যার ঘটনা। ভোটার লিস্টে নাম না থাকলেও আত্মঘাতী, এসআইআর-এ নাম না থাকলেও আত্মঘাতী। কে কেন আত্মঘাতী হচ্ছেন, একটু খতিয়ে দেখুন।’
প্রসঙ্গত, অন্নপূর্ণার টাকা না পাওয়া নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যে শনিবার ভবানীপুরে উপভোক্তাদের সঙ্গে মত-বিনিময় সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘এই মাসে এক কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলাকে টাকা দেওয়া হয়েছে। এটাও কথা দিচ্ছি, যাঁরা সামান্য এই ভাতার উপরে নির্ভর করেন বা প্রকৃত প্রাপক, আরও ২০-৩০ লক্ষ যদি লাগে, দেওয়ার ব্যবস্থা করব। এর পরেও কোনও যোগ্য থাকলে, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করা মহিলারা পোর্টালে আবেদন করুন।’ এ ক্ষেত্রে বিজেপি কর্মীরা সাহায্য করবেন জানিয়ে শুভেন্দু বলেছেন, ‘জেলায় জেলায় অন্নপূর্ণা প্রাপকেরা জড়ো হবেন। কলকাতায় এক লক্ষ অন্নপূর্ণা প্রাপককে নিয়ে সভা করব।’ তাঁর সংযোজন, ‘প্রত্যেক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সরকার (অন্নপূর্ণা যোজনার) টাকা পাঠাবে।’