যাদবপুর কাণ্ডে গঠিত তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিতে চান না নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য শুভশঙ্কর সরকার। গত ২২ অগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে একটি চিঠি লিখে সে কথা জানিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে শুভশঙ্কর জানান, চিরঞ্জীবের সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের সময়েই তিনি জানিয়েছিলেন যে, কিছু ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তিনি নিশ্চিত ভাবে তখন কিছু জানাতে পারেননি। এ কথা মনে করিয়ে শুভশঙ্কর লিখেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, উক্ত তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান পদ গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কমিটির কাজ সফল হোক, এই শুভকামনা জানিয়ে আপনাকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’
ঘটনাচক্রে, শুভশঙ্করকে তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শনিবারই আপত্তি তুলেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস-এর শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্কে অতীতে শুভশঙ্করের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই কারণে তাঁকে তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানোর দাবিও জানানো হয়।
গত ১৯ এবং ২০ অগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটিরই মাথায় ছিলেন শুভশঙ্কর। এ ছাড়া কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন বাবা সাহেব আম্বেডকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অরুণাশিস গোস্বামী এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি-র অধিকর্তা সৌমেন্দু চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু শুভশঙ্কর কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানোয় তদন্ত প্রক্রিয়ার গতি শ্লথ হয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।