গার্ডেনরিচে যুদ্ধজাহাজ তৈরির ৫ মেগা প্রকল্পের সূচনা রাজনাথের, বিনিয়োগ এল ৩৪০০ কোটি টাকা
আজ তক | ২৩ আগস্ট ২০২৬
বিজেপি সরকার বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক বিনিয়োগ আসছে রাজ্যে। এবার যুদ্ধজাহাজ নির্মাণেও বাংলায় এল প্রচুর বিনিয়োগ। রবিবার গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সে যার শিলান্যাস হয়ে গেল। দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।
আজ কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপিং কর্পোরেশনের কার্যালয়ে আসেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখানেই গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের লক্ষ্যে ৫টি নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়। এই ৫টি প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগ করা হচ্ছে মোট ৩৪০০ কোটি টাকা। বলা হচ্ছে, ভারতে জাহাজ নির্মাণ ও প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে এ এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলকের সূচনা।
যে ৫টি মেগা প্রকল্পের সূচনা হল আজ-
রবিবার ৩,৪০০ কোটি টাকার মোট ৫টি মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভূমিপুজোর সূচনা করেন রাজনাথ সিং। প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে—
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং ও শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা সচিব, জিআরএসই-র পদস্থ আধিকারিকেরা, রাজ্যের মুখ্য সচিব ছাড়াও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি এবং এমএসএমই (MSME) খাতের বিশিষ্ট শিল্পপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গার্ডেনরিচের নতুন ৫ প্রকল্প দেশের জলসীমান্ত সুরক্ষায় শিপইয়ার্ডের উৎপাদন ক্ষমতা ও পরিকাঠামো বৃদ্ধির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে সংস্থা নৌবাহিনী এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে কেন্দ্রের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। রবিবার এই নতুন প্রকল্পের মূল অনুষ্ঠান গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সে হলেও খিদিরপুর, শালিমার, রায়চক এবং ইছাপুরে একই সময়ে এই প্রকল্পগুলোর ভূমিপুজো বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে নিজের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বারবারই উল্লেখ করেছেন, বাংলার ডবল ইঞ্জিন সরকার এবার থেকে কেন্দ্রের হাতে হাত মিলিয়ে সব কাজ করবে। এরাজ্য বিনিয়োগের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণেই বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যুদ্ধজাহাজ তৈরির পরিকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে গার্ডেনরিচের। তা আরও বাড়বে। আজ গর্বের দিন। ৩৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে পাঁচটি নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। এরপর ৩৪০০ কোটি কেন, আরও অনেক বেশি অঙ্কের বিনিয়োগ হবে এ রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গ এখন বিনিয়োগের স্বর্গরাজ্য। পশ্চিমবঙ্গে যে সরকার এতদিন ছিল, তাদের কেন্দ্রীয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার কোনও ইচ্ছা ছিল না। ফলে পশ্চিমবঙ্গ অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। অথচ বাংলার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের জমি আছে, মানবসম্পদ আছে, পরিকাঠামো আছে, কাঁচামাল – সবই রয়েছে। এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার পূর্ণ গতিতে কাজ করছে।'
দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভূমিকারও ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে ভারতীয় সেনা যেভাবে শত্রুপক্ষকে যোগ্য জবাব দিয়েছে এবং ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিতে দেশরক্ষা বলয়কে সুরক্ষিত করেছে, তা বিশ্বের সামনে এক দৃষ্টান্ত। প্রধানমন্ত্রী মোদীর অনুপ্রেরণায় এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বে ভারত বিশ্বমঞ্চে ডিফেন্স সেক্টরের পরিচালক হয়ে উঠছে। স্বামী বিবেকানন্দের ‘চরৈবেতি চরৈবেতি’ (এগিয়ে চলো) নীতিকে পাথেয় করে রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ভারতীয় সেনা আগামী দিনে গোটা বিশ্বের সামনে নতুন নেতৃত্বের নজির গড়বে।’
এদিকে শুভেন্দুর প্রশংসা করে রাজনাথ সিং বলেন, 'শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতেই বাংলায় বদল এসেছে। উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। বিকাশের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। সব ক্ষেত্রেই বাংলা নতুন করে জেগে উঠছে। উদ্দেশ্য সৎ হলে উন্নয়ন কেউ আটকাতে পারবে না। বাংলায় এতদিন শিল্প বন্ধ হওয়ার খবর মিলত। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে শুধু বিনিয়োগের খবর। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দেশের প্রতিরক্ষায় নতুন প্রকল্প। বাংলার হাওয়ায় নতুন গন্ধ।'