‘কিছু জায়গায় অন্তর্ঘাত করার চেষ্টা হয়েছে’, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ শমীকের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৩ আগস্ট ২০২৬
রাজ্যের মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। পথ অবরোধ, রেল অবরোধ থেকে শুরু করে সরকারি দপ্তরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন মহিলারা। বারবার ফর্ম পূরণ করে ভেরিফিকেশন হলেও টাকা মেলেনি অনেকের বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, সরকারি যে নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে সেটার সঙ্গে বাস্তবের মিল থাকলেও অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা মাসিক মেলেনি প্রায় এক কোটি মহিলার। এমনই অভিযোগ পথে-ঘাটে, বাসে-ট্রামে, অফিস-কাছারিতে শোনা যাচ্ছে। সেখানে এবার এমন পরিস্থিতির নেপথ্যে অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব বা অভিযোগ সামনে আনলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
এদিকে এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় একদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আরও ২০-৩০ লাখ নিজে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। ইতিমধ্যেই বহু মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। আবার এখনও অনেকের তা মেলেনি। এই পরিস্থিতি কেন হলো? অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছতে দেরি হওয়ার নেপথ্যে ‘সিস্টেমের গলদ’ এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা ‘অন্তর্ঘাত’-এর ইঙ্গিত দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। একই সঙ্গে উদ্বেলিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শমীকবাবু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সমস্ত যোগ্য প্রাপকই শেষ পর্যন্ত তাঁদের বরাদ্দ অর্থ পেয়ে যাবেন।
অন্যদিকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে অনেকে আবার সমাজমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। রিল, ভিডিও, নানা ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রবিবার হাওড়ার একটি কর্মসূচিতে এসে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে মুখ খোলেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, গোটা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিচ্যুতি ঘটেছে। তবে অতীতের দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি যে বরদাস্ত করা হবে না সেটা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমাদের সময়ে তৃণমূল আমলের মতো পুরুষদের ভুয়ো উপায়ে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। কিছু জায়গায় ব্যবস্থার সমস্যা এবং সাবোতাজ করার চেষ্টা হয়েছে বলেই এই সমস্যা। অন্নপূর্ণা যোজনায় আরও প্রায় ৫০ লক্ষ মহিলা যুক্ত হচ্ছেন। মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশের টাকা পৌঁছনো বাকি রয়েছে। খুব শীঘ্রই সবাই নিজেদের হকের টাকা পেয়ে যাবেন।’
তাছাড়া রাজ্যের কলেজের গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট পদে বিজেপি বিধায়ক এবং সাংসদদের নাম ঘোষণার পর সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য-রাজনীতি। শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এদিন শমীকবাবুর দাবি, শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করতেই এই সিদ্ধান্ত। বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘আমরা বলেছি শিক্ষাঙ্গনকে আমরা রাজনীতিমুক্ত করব। আগে মহিলা অধ্যাপিকার দিকে জগ ছুড়ে মারা হতো। সেগুলো আটকানোর তো লোক দরকার। তাই এই সিদ্ধান্ত। এনারা দেখবেন যাতে কলেজে কোনওরকম অশান্তির পরিবেশ তৈরি না হয়।’